সংবাদদাতা, কাটোয়া: সামনেই পর্যটনের মরশুম। তার আগে পূর্বস্থলীর চুপির পাখিরালয়কে ঢেলে সাজাচ্ছে প্রশাসন। সেখানে গিয়ে বিদেশি পাখিদের নিয়ে তথ্যচিত্র দেখতে পারবেন পর্যটকরা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধ নিয়েও তথ্যচিত্র দেখানো হবে। তারজন্য তৈরি হচ্ছে পঞ্চাশ আসন বিশিষ্ট হল। পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে মিউজিয়ামও গড়া হচ্ছে। কোন পাখি দেখতে কেমন, তার পুরো বিবরণ মিউজিয়ামে দেখা যাবে। এইসব কাজের জন্য প্রথম ধাপে এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালনার মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল বলেন, পর্যটক টানতে চুপির পাখিরালয়কে এবার সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পাখিরালয়ে যে হলে তথ্যচিত্র দেখানো হবে, তারজন্য স্থানীয়দেরও সাহায্যে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি ওয়াচ টাওয়ার গড়া হবে। প্রথম ধাপে এক কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। আমরা এখনও প্রকল্প তৈরি করছি। পরবর্তী ধাপে আরও টাকা এলে ভোল বদলে যাবে চুপির। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের চুপির ছাড়ি গঙ্গা বিদেশি পরিযায়ী পাখিদের বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। চুপি, কাষ্ঠশালী, রাজারচর প্রভৃতি এলাকাগুলিতে বিদেশি পাখি দেখতে প্রতি বছর শীতের মরশুমে কাতারে কাতারে দেশি বিদেশি পর্যটক আসে। নামী চিত্রগ্রাহকরাও আসেন পাখির ছবি তুলতে। ছাড়ি গঙ্গারপাড় এলাকা জুড়ে প্রচুর রিসর্ট গড়ে উঠেছে পর্যটকদের জন্য। রাজ্য সরকার চুপির পাখিরালয়কে ঘিরে বড় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। পর্যটকের ভিড় বাড়তে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাচ্ছে। তাই প্রশাসনও পাখিরালয়কে নিয়ে বড়সড় পরিকল্পনা করেছে। পর্যটকদের জন্য রিসর্ট রয়েছে। এবার ক্যাফে গড়া হবে। যাতে শীতের আমেজে পাখিরালয়ে বসেই ছুটি কাটাতে পারেন পর্যটকরা। দেখতে পারবেন তথ্যচিত্র, যা থেকে দেশ বিদেশের হরেকরকম পাখির ফিরিস্তি জানা যাবে। মিউজিয়ামে নানা পাখির ছবিও থাকবে। যাঁরা পাখি চেনেন না, তাঁদের জন্য আগামী দিনে পূর্বস্থলীর চুপি একটা বড় ডেস্টিনেশন হতে চলেছে।



