নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা নেওয়া। তারপর চাকরি দেওয়া দূর অস্ত, উল্টে আবেদনকারীদের পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল দিনের পর দিন। সম্প্রতি রানাঘাট থানায় দায়ের হওয়া প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে নেমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম শেখ শামিম। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে। এছাড়ায় এই প্রতারণা চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। ধৃতের কাছ থেকে কয়েকজনের পাসপোর্টও উদ্ধার করেছে পুলিস।
এবিষয়ে রানাঘাট পুলিসের এসডিপিও সবিতা গটিয়াল বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আপাতত এতটুকুই বলা সম্ভব। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীরা প্রত্যেকেই রানাঘাট থানা এলাকার বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁরা এক এজেন্টের মাধ্যমে সৌদি আরব সহ বিদেশের চাকরির জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আটজন আবেদনকারীর সঙ্গে চুক্তি হয় সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে ৬৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে ওই সংস্থাকে। সেইমতো অনেকেই দু’টি কিস্তিতে সেই টাকা ওই সংস্থাকে মিটিয়ে দেন। এরপর ভিসা করানোর নাম করে তাঁদের থেকে পাসপোর্ট চেয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ, এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু হয়। দিনের পর দিন কেটে গেলেও তাঁরা কোনও চাকরি পাননি। তাদের ভিসাও হয়নি। এমনকী বারবার পাসপোর্ট ফেরত চাইলে তা দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। তাই শেষমেষ প্রতারিতরা রানাঘাট থানার দ্বারস্থ হন। তাঁদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিস শামিমকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে কিনা তা জানার
চেষ্টা চলছে।