Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিবহণ সচিবের ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ১

সকালে কচুরির দোকান চালাতেন। আর বিকেলে বাড়িতে বসে চলত সাইবার জালিয়াতি।

পরিবহণ সচিবের ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ১
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালে কচুরির দোকান চালাতেন। আর বিকেলে বাড়িতে বসে চলত সাইবার জালিয়াতি। পরিবহণ সচিবেব নামে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে টাকা চাওয়ার ঘটনায় রাজস্থানের ভরতপুর থেকে ধৃত বিজয় সাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্যই পেয়েছে লালবাজার। অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি ভরতপুরের সাইবার জালিয়াতি গ্যাংয়ের হয়ে কলকাতায় কাজ করছিলেন বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহনের নাম এবং ছবি দিয়ে একটি ভুয়ো ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকে ওই আমলার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছে বন্ধুত্বের মেসেজ পাঠানো শুরু করেন অভিযুক্ত। আমলার অনুরোধ ভেবে সকলেই তা গ্রহণও করেন। কয়েকদিন পর থেকে তাঁদের কাছে ওই ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইলের মালিক আত্মীয়দের কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন। পরিবহণ সচিব চাইছেন ভেবে অনেকে টাকাও দেন। বিষয়টি ওই আমলার কানে যায়। ফেসবুক খুলে জানতে পারেন ভুয়ো প্রোফাইল খোলা হয়েছে তাঁরা নামে। এরপরই ২০২৫ সালের মে মাসে অভিযোগ করেন লালবাজারের সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ওই ভুয়ো প্রোফাইলটি প্রথমে বন্ধ করেন। এরপর আইপি অ্যাড্রেস বের করে তাঁরা জানতে পারেন, একটি মোবাইল থেকে এই ভুয়ো প্রোফাইলটি চলছে। পুলিশ জানতে পারে, এটি ব্যবহার করছে বিজয় সাউ নামে এক ব্যক্তি। মোবাইলের কল ডিটেলস ঘেঁটে দেখা যায়, কলকাতা থেকে একাধিক কল যাচ্ছে রাজস্থানের ভরতপুরে। ওই মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়ছে। কিন্তু অভিযুক্তের নাগাল মিলছিল না। তদন্তে উঠে আসে, ভিপিএন পদ্ধতি ব্যবহার মোবাইলের আসল লোকেশন লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, অভিযুক্ত ভরতপুরে রয়েছে। এরপরই পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে বিজয়কে। বুধবার তাকে স্থানীয় আদালতে তুলে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলেন তদন্তকারীরা। তার পুলিশি হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সাইবার জালিয়াতিতে তাঁর হাতেখ঩ড়ি হয় ভরতপুরে। ধৃতের কচুরির দোকানও রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ