নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কুপিয়ে খুন করা হল এক ব্যক্তিকে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত সাধুগঞ্জ চর এলাকায়। মৃতের নাম সঞ্জিত ঘোষ (৪০)। খুনের মূল অভিযুক্ত পরিমল রাজোয়ারকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে সোমবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করা গিয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি কালীগঞ্জের বালিডাঙার বাসিন্দা। রবিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে সাধুগঞ্জ চর এলাকায় ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ সেই সময় কাড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা পরিমল রাজোয়ার, তাকে দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় সঞ্জিতকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে সঞ্জিতকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়। সোমবার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিমল রাজোয়ার নামের ওই ব্যক্তি এক বছর আগে সঞ্জিত ঘোষের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি ধার নিয়েছিল। ধার নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও পরিমল সুদ কিংবা আসল কোনওটাই শোধ করেনি। এই নিয়ে সঞ্জিত বারবার পরিমলকে তাগাদা দিতে থাকেন। এমনকী বেশ কয়েকবার তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ। এই অপমানেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পরিমল। রবিবার সন্ধ্যায় গ্রামে স্থানীয় এক ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন পরিমল রাজোয়ার একটি ধারালো দা নিয়ে মাঠে হাজির হয়। সেখানেই জনসমক্ষে সে সঞ্জিত ঘোষের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই আক্রমণে চমকে ওঠে উপস্থিত জনতা। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সঞ্জিত।
মৃতের ভাই মিঠুন ঘোষ বলেন, হঠাৎ শুনতে পাই দাদাকে কেউ কোপ মেরেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসি। তারপর হাসপাতালে আনতে আনতে দাদা যারা যায়। দাদাকে কেন খুন করা হল তা স্পষ্টভাবে বলতে পারব না।