


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ল’কলেজের ভিতরে গার্ডরুমে গণধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। নির্যাতিতা কলেজেরই প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এই নজিরবিহীন ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে পুলিস। তাদের ঘোষণা, এই মামলায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সেইমতো মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে ধৃতদের পেশ করা হয়। সেখানেই ভরা এজলাসে জোর সওয়াল করলেন সরকারি আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী। অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের জন্য আবেদন জানানো হয়। ধৃত মনোজিৎ মিশ্র, জায়িব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
১১ দিনের পুলিস হেফাজত শেষে মঙ্গলবার মনোজিৎ এবং তার স্যাঙাতদের আদালতে হাজির করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। ভরা এজলাসে তার চরম বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘ধৃতরা যথেষ্ট প্রভাবশালী। তারা জামিন পেলে পালিয়ে যেতে পারে, ভয় দেখিয়ে সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করতে পারে। ধৃতরা পুলিসকেও সহযোগিতা করছে না। তারা জামিন পেলে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।’
পাল্টা সওয়ালে মনোজিতের আইনজীবী রাজু গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘একটি সাদা কাগজে আমার মক্কেলকে সই করানো হয়েছে। আইনজীবীর উপস্থিতি সংক্রান্ত নির্দেশ তদন্তকারী সংস্থা মানেনি।’
অন্যদিকে, নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের সওয়াল, ‘আমার মক্কেল গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত নয়। কলেজের ভিতরে ঘটনা ঘটলে পরিচালন কমিটির ভূমিকা কীভবে সন্দেহের বাইরে থাকে?’ দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বিচারক ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কেসের তদন্ত-প্রক্রিয়া সম্পর্কে এদিন এজলাসে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সরকারি আইনজীবী। তাঁর দাবি, তরুণীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নির্যাতিতা এবং ধৃতদের পোশাক। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ এবং নথিপত্রসহ বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুভাশিসবাবু বলেন, এখনও কিছু ডিজিটাল ও ফরেন্সিক তথ্য-প্রমাণ আসবে। সেগুলি পাওয়ার পর ধৃতদের ফের জেরা করা জরুরি। তাই পুলিস হেফাজতের জন্য বরাদ্দ সময়ের মধ্যে এখনও তিনদিন হাতে থাকলেও তা নেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ঘটনার সময়ে ল’কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডঃ নয়না চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক এখনও টাটকা। প্রশ্ন উঠেছে, রেজিস্টারে লেখা আউট টাইমে কোনওরকম কারচুপি করা হয়েছে কি? সূত্রের খবর, এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। যদি রেজিস্টারে অন্য কেউ সময় বদলের চেষ্টা করে থাকে, তাহলে সন্দেহভাজন ঠিক কারা? ২৫ ও ২৬ জুন উপাধ্যক্ষের ঘরে এক বা একাধিক ব্যক্তি ঢুকেছিল কি না, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তা নিশ্চিত হতে চাইছেন তদন্তকারীরা। আদালতে তোলা হচ্ছে অভিযুক্তদের। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।