Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাসপাতালে ধর্ষণকাণ্ডে জড়াতেই বহু কীর্তি ফাঁস জাহিরের, চালাত সমান্তরাল প্রশাসন

খাতায়-কলমে মাস মাইনে ১২ হাজার টাকা। আর তাতেই চোখ ধাঁধানো ঠাঁটবাঁট! কী করে সম্ভব? ধর্ষণ কাণ্ডে জড়িয়ে যেতেই ধীরে ধীরে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা প্রদান বিষয়ক ম্যানেজার জাহির আব্বাস খানের কীর্তি।

হাসপাতালে ধর্ষণকাণ্ডে জড়াতেই বহু কীর্তি ফাঁস জাহিরের, চালাত সমান্তরাল প্রশাসন
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: খাতায়-কলমে মাস মাইনে ১২ হাজার টাকা। আর তাতেই চোখ ধাঁধানো ঠাঁটবাঁট! কী করে সম্ভব? ধর্ষণ কাণ্ডে জড়িয়ে যেতেই ধীরে ধীরে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা প্রদান বিষয়ক ম্যানেজার জাহির আব্বাস খানের কীর্তি। 

Advertisement

এজেন্সি নিয়োজিত এই কর্মীর সাতটি অ্যাম্বুলেন্স। সেগুলি সারাক্ষণই খেটে বেড়ায় ওই হাসপাতালেই। ক্যাম্পাসে মোট ২০টি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করা থাকে। কোন অ্যাম্বুলেন্স কোথায় কখন রোগী নিয়ে যাবে, সেটাও ঠিক করে দিত জাহির। হাসপাতালের বাইরে ভাইয়ের নামে রয়েছে প্যাথলজি ও ওষুধের দোকান। রোগীদের সেখানে যেতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ। এজেন্সি নিযুক্ত ফেসিলিটি ম্যানেজার হয়েও অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং ওষুধ বিক্রি সব জায়গায় সিন্ডিকেট চক্র চালাত জাহির। এদিকে, ধর্ষণকাণ্ডে মঙ্গলবারও তেতে ছিল পাঁশকুড়া। দফায় দফায় বিক্ষোভ হয় হাসপাতাল চত্বরে। এদিনই আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আদালতে নিগৃহীতা স্বাস্থ্যকর্মীর গোপন জবানবন্দি নেন বিচারক। পাশাপাশি ধৃত জাহিরকে সিজেএমের এজলাসে তোলা হয়। 
তদন্তে উঠে আসছে, ওই হাসপাতালে মোট ১৩৩ জন এজেন্সি নিযুক্ত কর্মী রয়েছেন। এদিন, তাঁরাই হাসপাতালের ভিতর ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ছিলেন হাসপাতাল সুপার কৌশিক ধল। হাসপাতালে থ্রেট কালচার থেকে সিন্ডিকেট চক্র দেদার চালানো সত্ত্বেও জাহির আব্বাসকে কখনও সতর্কটুকু করা হয়নি। বরং হাসপাতালে তার জন্য একটা রুম বরাদ্দ ছিল। সকাল ৯টায় সে হাসপাতালে ঢুকে যেত। ঢুকেই সমান্তরাল প্রশাসন চালাত। কথায় কথায় ছাঁটাইয়ের ভয় দেখানো হতো। গত চার বছরে তার অত্যাচারে ১২জন এজেন্সির কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করত। প্রতিবাদ করলে বাপ-মা তুলে গালিগালাজ দিত বলেও অভিযোগ। এদিনও এরকমই একটি অডিও নিয়ে সুপারের অফিস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে কেন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়েই সুপারকে চেপে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। 
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পাঁশকুড়া থানা থেকে ধৃত জাহিরকে পুলিশের গাড়িতে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে তোলার সময় ধৃত জানায়, তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। নিগৃহীতা যুবতী বলেন, প্রায় দু’মাস ধরে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল ওই ম্যানেজার। সাহস করে অভিযোগ করতে পারিনি। রবিবার হাসপাতালের একটি ঘরে ধর্ষণ করে। এরপর আর চুপ থাকা সম্ভব ছিল না। অভিযুক্তের কঠিন শাস্তি চাই।
এদিন, এসইউসির তরফেও হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করে। ওই দলে থাকা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী পম্পা সাঁতরা বলেন, অভিযুক্তের কঠিন শাস্তি চাই। হাসপাতাল সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্বরাও হাসপাতালে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল সুপার কৌশিক ধল বলেন, ‘আমি ওইদিন ছুটিতে ওপিডি রুমে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে বলে আমাকে জানানো হয়। এজেন্সির লোকজন অভিযোগ করার পর থানার আইসিকে জানাই। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তকে রুম দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ