নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পাঁচ বছরের শিশুর সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হল মহিলা খুনের মামলায় অভিযুক্ত যুবক। তার নাম শেখ মুন্না। বুধবার আলিপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অঞ্জনকুমার সেনগুপ্ত ওই যুবককে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। সোমবার তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হবে। মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী সফিনা আহমেদ এদিন আদালতে এই অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া সাজার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে মহিলাকে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তাতে অপরাধীর বিরুদ্ধে আমরা চরম সাজার দাবি জানাচ্ছি সরকার পক্ষ থেকে।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায়। বাড়িতে ছিলেন না মহিলার স্বামী। মহিলা তাঁর বোনের পাঁচ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। রাতে ঘরের বাইরে শৌচকর্ম সেরে ফের ঘরে আসার সময় পাশেই একটি কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে মুন্না। আচমকা ঘরে ঢুকে মহিলার উপর সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে নির্যাতন চালাতে বাধা দিলে ওড়না পেঁচিয়ে ওই মহিলাকে শ্বাসরোধ করে যুবকটি খুন করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি চোখের সামনে দেখে পাঁচ বছরের শিশুটি। সে এক সময় ভয় পেয়ে কাঁদতে থাকে। ওই রাতেই কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরে ঢুকে মৃত অবস্থায় মহিলাকে দেখে আঁতকে ওঠে। পুলিস খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে শিশুটি বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেয়। গোপন জবানবন্দি ও আদালতে তার সাক্ষ্যে যুবকটি দোষী সাব্যস্ত হয়। সরকারি কৌঁসুলি জানান, আদালতে বিচার চলাকালে পাঁচ বছরের ওই শিশুটি অভিযুক্ত মুন্নাকে শনাক্ত করে। দীর্ঘ শুনানির শেষে জেল হেফাজতে থাকা ওই যুবককে এদিন খুনের অপরাধে বিচারক দোষী সাব্যস্ত করেন। যদিও কোর্ট থেকে লকআপের নিয়ে যাওয়ার পথে ওই যুবক বলে, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।