সংবাদদাতা, কাটোয়া: ফেসবুকে কলকাতার যুবতীর সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনে মঙ্গলবার রাতে ভাগীরথীতে ঝাঁপ দিলেন এক যুবক। তাঁকে বাঁচাতে এক বন্ধুও নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই বন্ধুকে উদ্ধার করা হলেও তলিয়ে যাওয়া যুবকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বছর ১৯-এর ওই যুবকের নাম সম্রাট বিশ্বাস (১৯)। বাড়ি কাটোয়া শহরের সুকান্তপল্লি এলাকায়। বুধবার ভাগীরথীতে স্পিডবোট নিয়ে তল্লাশি চালায় বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। ডুবুরি নামিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্রাট বিধবা মায়ের সঙ্গে থাকেন। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অন্যের দোকানে কাজ করেই তাঁদের সংসার চলত। ওইদিন সন্ধ্যায় সম্রাট ও তাঁর বন্ধু গণেশ রাজবংশী কাটোয়ার শ্মশানঘাটে ভাগীরথীর পাড়ে বসে গল্প করছিলেন। সেই সময় মোবাইলে প্রেমিকার সঙ্গে সম্রাটের ঝগড়া হয়। তারপরই রেগে নদীতে ঝাঁপ দেন সম্রাট। তাঁকে বাঁচাতে বন্ধু গণেশও নদীতে ঝাঁপ দেন। দু’জনেই তলিয়ে যেতে থাকেন। গণেশের চিৎকারে পাড়ে থাকা এলাকার যুবক অনির্বাণ দাস তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু সম্রাটকে তিনি বাঁচাতে পারেননি। অনির্বাণ বলেন, আমি রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে নদীর পাড়ে এসেছিলাম। আচমকা দু’জনকে ভেসে যেতে দেখি। নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনকে কোনওমতে পাড়ে টেনে নিয়ে আসি। কিন্তু আর একজনকে বাঁচাতে পারিনি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। সম্রাটের বন্ধু গণেশ বলেন, ও আমার ভালো বন্ধু ছিল। ফোনে মেয়েটার সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তারপরই ঝাঁপ দেয়। ওকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনের কথা না ভেবেই ঝাঁপ দিয়েছিলাম। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। সবই হয়েছে ওই মেয়েটার জন্য। সম্রাটের দিদি পিঙ্কি বিশ্বাস বলেন, ওই মেয়েটা ভাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মাঝেমধ্যেই টাকাপয়সা নিত। ভাই খুব কষ্ট করে মেয়েটার চাহিদা মেটাত। মেয়েটার জন্যই ভাই নদীতে ঝাঁপ দেয়। সম্রাটের মা বলেন, ছেলেকে রাত থেকে পাওয়া গেল না। মেয়েটাকে যে কেন ভালোবাসতে গেল? আমার সব শেষ হয়ে গেল।



