Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাতে বাড়ির কাছে যুবককে কুপিয়ে খুন, তীব্র চাঞ্চল্য চুঁচুড়ায়

গভীর রাতে বাড়ির কাছেই এক যুবককে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা

গভীর রাতে বাড়ির কাছে যুবককে কুপিয়ে খুন, তীব্র চাঞ্চল্য চুঁচুড়ায়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গভীর রাতে বাড়ির কাছেই এক যুবককে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। রবিবার রাতের ওই ঘটনাকে ঘিরে হুগলি জেলা সদর চুঁচুড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সঞ্জয় রাজবংশী (২৭)। হুগলি স্টেশনের কাছে লোহারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক টোটো চালাতেন। ২০১৯ সালে হুগলি স্টেশনে এক ব্যক্তির নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর নাম জড়ায়। পরে পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও পরিবারের দাবি, গত বছর পুজোর আগে আদালত তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল। রবিবার ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে চুঁচুড়া থানার পুলিস। ওই এলাকা ঘিরে দিয়ে পুলিস পিকেট বসিয়েছে। জেলা সদরের বুকে এই ভয়াবহ খুনের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই যুবকের জীবনযাপন খুব একটা স্বচ্ছ ছিল না। নানা রকমের নেশা ছিল তাঁর। সঞ্জয়ের অতীত নিয়েও প্রশ্ন আছে। পাশাপাশি খুনের ধরন বলছে, আক্রোশের বশেই তাঁকে কোপানো হয়েছে। চুঁচুড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পুরনো শত্রুতার জের বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের ধরা হবে। মৃতের মা প্রৌঢ়া লক্ষ্মীদেবী বলেন, রাতে ঘরের দরজায় কেউ একজন ধাক্কা মারে। সেই ব্যক্তি জানায়, আমার ছেলে রাস্তায় পড়ে রয়েছে। গভীর রাতে বাইরে গিয়ে দেখি, কাছেই রাস্তার উপর ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ওর কোনও শত্রু ছিল না কি না, জানি না। কিন্তু যে আমার ছেলেকে খুন করেছে, তার শাস্তি চাই।  
পরিবার ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় সঞ্জয় বেপরোয়া জীবনযাপন করতেন। খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছর পুজোর সময় ছাড়া পান। তারপর তাঁর বাড়ির লোকজন তাঁকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় এক দিদির বাড়িতে রেখে আসেন। সেখানেই তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন। কয়েকমাস আগে চুঁচুড়ার বাড়িতে ফিরে টোটো চালাতে শুরু করেন। 
পরিবারের দাবি, বেপরোয়া জীবনযাপন থেকে ওই সঞ্জয় সরে এসেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি টোটো চালিয়ে বাড়ি ফিরে পুজো দেখতে যাবেন বলে বেরিয়ে যান। বাড়িতে বলেছিলেন, খিচুড়ি খাওয়ার নিমন্ত্রণ আছে। রাত ৮টা নাগাদ দিদি রানি রাজবংশীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। গভীর রাতে এক অচেনা ব্যক্তি তাঁর মা’কে বলেন, আপনার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরিবারের লোকজন বাইরে এসে দেখেন, সঞ্জয়ের মাথায়, গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোপানো হয়েছে। দ্রুত তাঁকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের মৃত্যু হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ