


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইসমাইল বাউরিপাড়া হয়ে বিজেপির প্রচার গাড়ি ঢুকেছে ৬০ ফুটের বিশাল চওড়া রাস্তায়। একপাশে বার্নপুর তো অন্যপাশে এসবি গরাই রোড হয়ে আসানসোল। প্রশস্থ রাস্তা, অথচ জরাজীর্ণ। অথচ এই রাস্তাকেই আসানসোলের লাইফলাইন এসবি গরাই রোডের বিকল্প হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাঁর জীর্ণ দশা। বুধবার টোটোয় চেপে মাইক হাতে প্রচারে বেরিয়ে রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেই স্থানীয় মানুষ পালটা আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীকে প্রশ্ন করেন, পাঁচ বছর তো বিধায়ক ছিলেন। এই এলাকায় কতবার এসেছেন? পরিস্থিতি সামলাতে অগ্নিমিত্রা বলেন, রাস্তার এমন দশা কেন তার জবাব তো তৃণমূলকেই দিতে হবে। এরা কোনো উন্নয়ন করেনি। এবার রাজ্যে পরিবর্তন আসবে। বাংলার নতুন বিজেপি সরকার এই দীর্ঘ রাস্তা নতুন করে বানাবে।
৬০ ফুটের এই চওড়া রাস্তার পাশেই গাছের তলায় বসেছিলেন এলাকার কয়েক জন প্রবীণ মানুষ। এদিন অগ্নিমিত্রার প্রতিশ্রুতিতেও যে চিঁড়ে ভেজেনি তা তাঁদের মুখ দেখলেই বোঝা যায়। তৃণমূল জমানায় এই রাস্তার হাল নিয়ে প্রশ্ন করতেই অনেকে বলেন, আমরা আর্জি জানিয়েছিলাম রাস্তার নীচ দিয়ে যাওয়া জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে। তাতে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছে। এটুকু সংস্থার করে দিন। বিধায়ক তহবিল থেকে সেই কাজটুকুও করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, বাম আমলেই এই রাস্তার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসবি গরাই রোড সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। সেই রাস্তার উপর আসানসোল জেলা হাসপাতাল সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। হাজার, হাজার মানুষের যাতায়াতের বিকল্প রাস্তার জন্য ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি লিজ নিয়ে এডিডিএ এখানে রাস্তা করে। এলাকার বাসিন্দা রমেন্দ্রনাথ ভাওয়াল বলেন, বামেরা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়। লিজ ডিডগুলি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন লোকজনদের ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এডিডিএ চেয়ারম্যান হয়ে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চারজন জমি মালিক মামলা করায় তা আর হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাসিন্দাদের দাবি, সবপক্ষকে নিয়ে প্রশাসন আলোচনা করলে নিশ্চয়ই সমস্যা মিটে যেত। এদিন প্রচারে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, তৃণমূল সরকার মানুষকে শুধু ভোগান্তি দিয়েছে। আমরা সরকারে এলে জমি জট কাটিয়ে এই রাস্তার সংস্থার করব। এসবি গরাই রোডের বিকল্প হিসাবে এই রাস্তা ফের মর্যাদা পাবে। এদিকে, আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এলাকার ইতিহাস জানেন না অগ্নিমিত্রাদেবী। আমি এডিডিএ চেয়ারম্যান থাকাকালীন দেড় কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা সংস্কার করছিলাম। জমি মালিকরা এমন মামলা করল আমাকে হাই কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হল! ভোটে জিতে ফের সবার সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করা হবে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর প্রশাসন রাস্তার বিষয়ে সচেষ্ট হয়নি। -নিজস্ব চিত্র