Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফলন স্বাভাবিক, এবার পুজোয় পদ্মের চাহিদা মেটাবে বাংলাই

দুর্গাপুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে প্রথমেই নাম আসে পদ্মফুলের। এ রাজ্যে পুজোয় প্রয়োজন হয় এক কোটিরও বেশি পদ্ম। বিভিন্ন বছরে সেই চাহিদা মেটাতে অন্য রাজ্য থেকে ফুল আনতে হতো বাংলার বাজারে।

ফলন স্বাভাবিক, এবার পুজোয় পদ্মের চাহিদা মেটাবে বাংলাই
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: দুর্গাপুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে প্রথমেই নাম আসে পদ্মফুলের। এ রাজ্যে পুজোয় প্রয়োজন হয় এক কোটিরও বেশি পদ্ম। বিভিন্ন বছরে সেই চাহিদা মেটাতে অন্য রাজ্য থেকে ফুল আনতে হতো বাংলার বাজারে। কিন্তু এবছরের ছবিটা একটু আলাদা। ফলন স্বাভাবিক থাকায় উৎপাদিত পদ্মেই রাজ্যর বিভিন্ন পুজোর চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব বলে মত ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা। দুর্গাপুজোকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই বিভিন্ন হিমঘরে পদ্ম মজুত করা শুরু হয়েছে। 

Advertisement

রাজ্যের ফুল ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় চাষ হয় মূলত সাদা ছোট পদ্মফুলের। বঙ্গের গোলাপি পদ্মের তুলনায় দাম কিছুটা কম হওয়ায় ফি বছর এই ফুলের ভালোই চাহিদা থাকে। ফুলবাজারে এই পদ্মের জোগান এবার কিছুটা কম থাকলেও পুজো মরশুমে কোনও সমস্যা হবে না। সারা রাজ্য ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্মের দরকার হয়। কোথাও কোথাও আবার প্রথা মেনে দুর্গা পুজোয় মায়ের গলায় পড়ানো হয় পদ্মের মালা। তাই বারোয়ারির পাশাপাশি যে সমস্ত বাড়িতে পুজো হয়, তারাও এখন থেকেই পদ্মের বরাত দিয়ে রেখেছেন। যাতে করে কোনও সমস্যা না হয়। এবারে যা ফলন, পদ্মের জোগানে কোনও ঘাটতি হবে না।’ 
দশভূজার আরাধনা ঘিরে অন্য বছরের মতো এবারও পদ্মের বাজার চাঙ্গা থাকবে বলে আশাবাদী বঙ্গের ফুল ব্যবসায়ীরা। কলকাতার ফুল বাজারের ব্যবসায়ী সজল দাস বলেন, ‘দুর্গাপুজো চারদিনের। তাই অন্য যে কোনও পুজোর থেকে এই পুজোর চারদিনই ফুলের বাজার বেশ ভালো থাকে। পদ্মের পাশাপাশি অন্যান্য ফুলের চাহিদাও ভালো থাকে। ফলে কিছু টাকা বাড়তি আয় হয়। মহাজনদের বকেয়াও মেটানো সম্ভব হয়।’ ফুল চাষি অলোক পান বলেন, ‘গত বছর পুজোয় প্রতিদিন তিনশোরও বেশি পদ্ম বিক্রি করেছি। এবার পদ্মের ফলন স্বাভাবিক, ফলে বিক্রি কিছুটা বাড়বে।’ খুচরো ফুল বিক্রেতা সুজয় মজুমদার জানান, উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে বেশি দামে পদ্মফুল বিক্রি করতে হয় আমাদের। এবার পদ্মের ফলন স্বাভাবিক। তাই খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না। 
হাওড়া, বর্ধমান, বীরভূম, মেদিনীপুর ক্যানেলে যে পদ্মের চাষ হয়, সেই ফুল তোলার কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পুজোর সময় বিক্রির জন্য তা হিমঘরে মজুতের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকে ওই ফুল কলকাতার বাজারে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ