


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আর মাত্র ১০ দিন। ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে দীঘায় দ্বারোদ্ঘাটন হবে জগন্নাথদেবের মন্দিরের। পুরীর আদলে বাংলার সমুদ্র সৈকতও পরিচিত হবে পুণ্যভূমি হিসেবে। আর সত্যি হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্ন। স্বয়ং শ্রীবিষ্ণুও তেমনটাই চাইছেন। আর এই কথা বলছে স্থানীয় লোকজন। কারণ, রবিবার দীঘার সমুদ্রতটে ভেসে এসেছে জগন্নাথদেবের কাঠের বিগ্রহ। তার একটি হাত ক্ষতিগ্রস্ত। পুরো ব্যাপারটাই কি কাকতালীয়? এর নেপথ্যে কি কোনও অলৌকিক ক্রিয়া নেই? এই প্রশ্ন এদিন ঘুরপাক খেয়েছে গোটা এলাকায়। মানুষ ভিড় করেছেন শ্রীজগন্নাথদেবের সেই বিগ্রহ দেখতে।
জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এমনিতেই দীঘায় এখন সাজ সাজ রব। মেগা ইভেন্ট। এই একটি শব্দবন্ধেই মন্দিরের উদ্বোধন পর্বকে ব্যাখ্যা করছে অতি উৎসাহী থেকে সাধারণ মানুষ। প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। জগন্নাথ মন্দিরের সামনে পার্ক থেকে স্নানঘাট—সর্বত্র সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। মন্দির উদ্বোধনের পর ওই ঘাট সাধারণ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সুসজ্জিত ওই ঘাটে স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন ভক্তরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডিএসডিএ’র নবনির্মিত ঘাটেই রবিবার ওই বিগ্রহ দেখতে পান পর্যটকরা। তারপর সেটি তুলে নিয়ে আসা হয় সি-বিচে। দেখা যায়, বিগ্রহের বাঁ-হাতের কিছুটা অংশ ভাঙা। বিদ্যুতের গতিতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই খবর। সাধারণ মানুষ তো বটেই, দলে দলে পর্যটকরাও চলে আসেন ওই ঘাটে। কিছুক্ষণ পর বিগ্রহটি পুরাতন জগন্নাথ মন্দিরে আনা হয়। এই মন্দির আসলে মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এদিন ওই ঘাটে ছিলেন নদীয়ার বীরনগর থেকে আসা বিক্রম কুণ্ডু, মিলন দাস। তাঁরা বলেন, ‘সি-বিচে বিগ্রহ তুলে আনার পর আমরা দেখলাম। মন্দির উদ্বোধনের ১০ দিন আগে এভাবে সমুদ্রে ভেসে দীঘায় এলেন প্রভু! আমরা সত্যিই অবাক। আগামী দিনে দীঘায় শুধু সমুদ্রের উথাল পাথাল ঢেউ নয়, জগন্নাথপ্রভুর টানেও লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসবেন।’
মাহেন্দ্রক্ষণ দুপুর ৩টে থেকে ৩টে ১০ মিনিট। এই সূচি মেনেই ৩০ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দির ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের অনুমান, উদ্বোধনের দিনে জগন্নাথদেবের টানে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ আসবেন দীঘায়। সেইমতোই চলছে প্রস্তুতি। দিন দু’য়েক আগে থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে আগাম ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, দীঘার জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য মিলবে এক ক্লিকে। একেবারে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে ওয়েবেল। সেখানেই মিলবে দীঘার মন্দির সংক্রান্ত সব তথ্য। উৎসুক মানুষ কিন্তু এখন থেকেই পৌঁছে যাচ্ছেন মন্দির চত্বরে। একবার অন্তত চাক্ষুষ করতে চাইছেন পুরীর আদলে তৈরি এই শিল্পকর্ম। স্টেশনে ট্রেন থামলে হোটেল যাওয়ার আগে অনেকেই বলছেন, ‘একবার দেখে যাই।’ জগন্নাথদেবের মন্দির নিয়ে গোটা রাজ্যে যে উন্মাদনা এবং উৎসাহ তৈরি হয়েছে, সে নিয়ে সংশয় নেই। এদিনের বিগ্রহ উদ্ধার সেই উন্মাদনাকেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পথচলতি মানুষ থেমে গিয়ে প্রশ্ন করছে, ‘প্রভুর এই বিগ্রহ স্থায়ীভাবে কোথায় থাকবে? নতুন মন্দিরে?’