সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় ৭০ জন মহিলা শাড়ি পরে গাছ বসচ্ছেন নদীর পাড়ে। বিনা পারিশ্রমিকে, স্বেচ্ছায় এই কাজ করছেন, কেউ তাঁদের বাধ্য করেননি। নিজের বাড়ি, জমি বাঁচানোর তাগিদেই সবকিছু ফেলে এই কাজ করেছেন তাঁরা। গাছ রোপণের কারণ হল, ভাঙন রোধ। নদীর চরে ছোটখাট ম্যানগ্রোভ জঙ্গল তৈরি করে ফেলার পরিকল্পনা মহিলাদের। এছাড়া নদীর পাড়ে বসাচ্ছেন ঝাউগাছ। এই দুই গাছ ভাঙন আটকাতে সাহায্য করবে। বাড়িঘরদোর চাষের জমি রক্ষা পাবে। গাছ এখন অনেকটা বড় হয়েছে। শিকড় ছড়িয়েছে মাটির গভীরে। শক্ত হচ্ছে মাটি। এখন চট করে নদীর জল মাটি ধসিয়ে দিতে পারবে না। এই লক্ষ্যেই বিনা পারিশ্রমিকে শয়ে শয়ে গাছ বসিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের মহিলারা।
ফণী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পর সাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপের অধিকাংশ চলে গিয়েছিল নদীগর্ভে। এমনিতেই দ্বীপটি ভাঙন কবলিত। ছোটখাট প্রাকৃতিক বিপর্যয়েই ভেঙে যায় নদীর চর। এর ফলে দ্বীপটি আগের তুলনায় আকারে ছোট হয়ে গিয়েছে। যে এগারশোর মতো বাড়ি অবশিষ্ট আছে তা টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন মহিলারা এবং গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। এই করতে করতে দেশের কাছে নজির তৈরি করে ফেলেছে সাগরের ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েত। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরি করে সবুজ পঞ্চায়েত গড়ে তোলার কাজও করে চলেছেন। ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে নিরন্তর লড়াই চলছে। মহিলারা সবাইকে সচেতন করতে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় পর্যন্ত নেমেছেন। প্রশাসনও নিচ্ছে একাধিক পরিকল্পনা।
জানা গিয়েছে, এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে পরিশুদ্ধ পানীয় জল। নলকূপে তৈরি করা হয়েছে সোকপিট। যার মাধ্যমে অতিরিক্ত জল মাটির নীচে পৌঁছে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধি করছে। পঞ্চায়েতের প্রতিটি বাড়ি ও দোকান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে তৈরি হয় জৈব সার। প্লাস্টিকমুক্ত পঞ্চায়েত গড়ে তুলতে ব্যবহার হয় কাপড়ের ব্যাগ। এ সব কাজের খতিয়ান দিয়ে প্রশাসন একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। সনজিত কাজলী নামে ঘোড়ামারার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাইরের মানুষের কাছে ঘোড়ামারা ডুবন্ত দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ভাঙনের জন্য দ্বীপ ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। সেই পরিস্থিতি আটকাতে বাসিন্দারা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন। বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।’ সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় বলেন, ‘ঘোড়ামারায় প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রিন ও ক্লিনের পাশাপাশি এই পঞ্চায়েত মডেল হিসেবে নিজেকে পরিণত করেছে।’ নিজস্ব চিত্র