নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সচেতনতার প্রচার পর্বেই চিহ্নিত ৭ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭৩ জন। ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ‘২৫-এর ১৭ মার্চ চলেছে যক্ষ্মা মুক্ত ভারতের প্রচার। বাড়ানো হয়েছিল যক্ষ্মা পরীক্ষা। জোর দেওয়া হয়েছিল ৩৪৭টি জেলায়, যেখানে যক্ষ্মার প্রবণতা বেশি। রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছিল, সংশোধনাগারে বন্দিদের যক্ষ্মা পরীক্ষারও। কারণ, যক্ষ্মা মুক্ত ভারত গড়তে নরেন্দ্র মোদির টার্গেট ২০২৫ সাল। গোটা বিশ্ব ২০৩০ সাল টার্গেট রাখলেও নিজেকে পৃথক প্রমাণে ভারতের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ বছর আগেই।
তাই হাতে আর মাত্র আট মাস। চলতি বছরের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূলকরণ করতেই হবে। তারই লক্ষ্যে গত বছর ৭ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল ১০০ দিন ধরে যক্ষ্মামূক্ত ভারত তৈরির প্রচার। রাজ্যকে দেওয়া সেই নির্দেশ কতটা পালন হয়েছে, কোথাও নতুন করে যক্ষ্মার প্রভাব বাড়ছে কিনা, কোথায় কত নতুন যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে অথবা কমেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে চাইছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
সেন্ট্রাল টিউবারকুলেসিস ডিভিশনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি চান, তাঁর সময়েই যেন যক্ষ্মা নির্মূলকরণ কর্মসূচি সফল হয়। সেই মতো রাজ্যগুলির থেকে কাজের বিস্তারিত রিপোর্ট চাইতে মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। ১১ এপ্রিলের হিসেব মতো গোটা দেশে গত চার মাসে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৮৫ জন। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে যক্ষ্মা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত ২৮ হাজার ৭৬০ জন।
তাই এ ব্যাপারে রাজ্যগুলি আরও সক্রিয় হোক চায় কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট মোতাবেক, পশ্চিমবঙ্গে গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি যক্ষ্মা রোগী চিহ্নিত কলকাতায়। আক্রান্ত ৩ হাজার ৫০৪ জন। তারপরেই উত্তর-২৪ পরগণা (২ হাজার ২৩৫ জন)। ঘাড়ে ঘাড়েই পূর্ব বর্ধমান (২ হাজার ২২৪)। সবচেয়ে কম কালিংপঙে। মাত্র ১৩১ জন। বাংলায় সরকারি ব্যবস্থায় চিকিৎসা চলছে ১৯ হাজার ৯৯৪ জনের। বেসরকারিতে ৮ হাজার ৭৬৬ জনের। ফলে যক্ষ্মা নির্মূলকরণে আরও বেশি প্রচার চায় কেন্দ্র।