Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রুটি-রুজি বন্ধ, গৃহবন্দি বাঙালিরা ফিরতে চান

প্রতিবেশী দেশ নেপাল অস্থির। সেদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন বাঙালিরা। গিয়েছেন সেখানে রুটিরুজিরই টানে।

রুটি-রুজি বন্ধ, গৃহবন্দি বাঙালিরা ফিরতে চান
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রতিবেশী দেশ নেপাল অস্থির। সেদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন বাঙালিরা। গিয়েছেন সেখানে রুটিরুজিরই টানে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলেই আতঙ্কিত। কার্যত বন্‌ধের চেহারা নিয়েছে নেপালের বিভিন্ন এলাকা। তাতে কার্যত গৃহব঩ন্দি অবস্থায় কাটছে তাঁদের। বাংলায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও। বুধবার হোয়াটস অ্যাপ কলে এই প্রতিবেদকের কথা হয় নেপালে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন বাঙালির সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে খানাকুলের বন্দর এলাকার বাসিন্দা ও সোনার কারিগর সুদীপ গুছাইত দীর্ঘদিন ধরে নেপালে রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী-কন্যাও থাকেন সঙ্গে। সুদীপ বলেন, দীর্ঘদিন ভৈরবা শহরে রয়েছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি এই প্রথম। কিছুদিন আগে হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক বন্ধ হল। বাড়িতে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তারপরই শুরু হয় অশান্তি। মঙ্গলবার বাড়ির কাছে শপিং মলে লুটপাট চলে। অন্যান্য জায়গায়ও ব্যাপক ঝামেলা হয়েছে। তাই একপ্রকার গৃহবন্দি এবং কাজকর্মও বন্ধ। 

Advertisement

বন্দরে সুদীপের মা মীরা দেবী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ছেলে, নাতনি, বউমার জন্য সবসময় চিন্তা হচ্ছে। এদিন দুবার কথা বলেছি। পরিস্থিতি ঠিক হলে বাড়িতেই ফিরতে বলেছি। 
খানাকুলে চিংড়ার বাসিন্দা সুমন ভৌমিকও রয়েছেন ওইসঙ্গে। তিনি গিয়েছেন মাস সাতেক আগে। স্বর্ণকার সুমন বলেন, ‘বাড়ি থেকে মাঝে মাঝে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বেরোতাম, এখন তাও বন্ধ। বন্ধ দোকানপাটও। সেনার নিয়ন্ত্রণে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।’ ঘাটাল এলাকার বাসিন্দা বংশী জানা পরিবার নিয়ে বছর পনেরো কাঠমান্ডুতে রয়েছেন। তিনিও এদিন ভিডিয়ো কলে বলেন, ‘আন্দোলন থেমে গিয়েছে। তবে যথেষ্টই অশান্তি হয়েছে এখানে। আমরা বাড়িতেই রয়েছি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে মানা করা হয়েছে। সেজন্য মঙ্গলবার খাবারদাবার কিনে এনে রেখেছি। তবে এই পরিস্থিতিতে লুটপাটের আতঙ্কও রয়েছে।’ 
আরামবাগ শহরের প্রফেসারপাড়ার এক বাসিন্দা নেপালে কর্মরত। স্বামীর কাছে কিছু আনাজপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রী বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সীমান্ত যে ‘সিল’! বুধবার বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তিনি আপাতত দুর্গাপুরে রয়েছেন। প্রফেসারপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক দত্ত বলেন, ‘ছেলে যেখানে রয়েছে সেখানকার পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক। কিন্তু বউমা কিছু আনাজ, ওষুধপত্র নিয়ে বাসে করে নেপাল যাচ্ছিলেন। সীমান্তে আটকে দেওয়ায় ফিরে এসেছেন। তাঁর হয়রানিই সার!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ