নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোশবালে। তাঁর দাবি, ভারতের সংবিধান থেকে সরাতে হতে ধর্মনিরপেক্ষ এবং সমাজতান্ত্রিক শব্দ দু’টি। কারণ, বাবাসাহেব আম্বেদকর সংবিধান সভায় যে সংবিধান পেশ করেছিলেন এবং যে সংবিধান অনুমোদিত হয়ে ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়েছিল, সেখানে এই শব্দ দু’টি ছিল না। জরুরি অবস্থা জারি করে ইন্দিরা গান্ধী সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনী এনে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করিয়েছিলেন। সঙ্ঘের দাবি, জরুরি অবস্থার সময় পার্লামেন্ট ছিল অবৈধ। তাহলে সেই পার্লামেন্ট থেকে পাশ হওয়া এই সংশোধনীও বৈধতা পায় না। অতএব ১৯৫০ সালে গ্রহণ করা সংবিধানই প্রকৃত সংবিধান। হোশবালের এই দাবিতে সম্মত হয়ে একের পর এক বিজেপি নেতা, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সরব হয়েছেন। এমনকী দেশের উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার সেই পথেরই পথিক হয়েছেন। কিন্তু এই দাবিতে যতটা বিরোধী দল তথা কংগ্রেসের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তেমনি আলোড়ন পড়েছে বিজেপির অন্দরেও। কারণ, প্রশ্ন উঠছে, দলের নিজস্ব সংবিধানেই তো সেকুলার, সোস্যালিস্ট শব্দ দু’টি রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি গঠিত হয়েছে ১৯৮০ সালে। অর্থাৎ জরুরি অবস্থার অবসানের তিন বছর পর। অটলবিহারী বাজপেয়ি ও লালকৃষ্ণ আদবানিরা দলের এই সংবিধান রচনা করেছেন। ভারতীয় সংবিধান থেকে যদি সেকুলার ও সোস্যালিস্ট বাদ দেওয়ার দাবি তোলা হয়, তাহলে বিজেপি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কি দলীয় সংবিধানও বদলে ফেলবে? অর্থাৎ আদবানি, বাজপেয়িদের তৈরি সংবিধান সংশোধন করে মোদির সংবিধান অনুযায়ী আগামী দিনে দল চলবে? এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদি কিছু মন্তব্য করেননি। সুতরাং যতক্ষণ না এই নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও অবস্থান না জানান, ততক্ষণ এই নিয়ে জলঘোলা করার অর্থ নেই। যদিও বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন, হোশবালে কোনও এলেবেলে সঙ্ঘ নেতা নন। তিনিই আগামীদিনের সরসঙ্ঘচালক। সুতরাং এই দাবি সঙ্ঘেরই অবস্থান হিসেবে গণ্য হবে। তাদের অবস্থানকে বিজেপি কি অমান্য করতে পারবে?



