প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল ‘মাল্টি সেক্টরাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রম’ করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়। কিন্তু দেখা যায়, প্রকল্পের নাম বদলের দু’বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই খাতে যাবতীয় বরাদ্দ। একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত থেকেছে বাংলা। ফলে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রস্তাবিত কাজের খতিয়ান চেয়ে পাঠিয়েও পরপর চারটি অর্থবর্ষে নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে টালবাহানা চালিয়ে গিয়েছে কেন্দ্র। তবে হাল ছাড়তে নারাজ রাজ্য লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছে কেন্দ্রের সঙ্গে। হিসেব বুঝিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে নথি আদানপ্রদানে কোনও খামতি রাখেনি রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাব পোর্টালে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তবে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করতে কার্যত বাধ্য হয়েছে বলেই মনে করছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল। তবে সেক্ষেত্রে আগে পাঠানো রাজ্যের সমস্ত প্রস্তাবের আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না। ফলে আরও একবার বাংলা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে বলে আশঙ্কা প্রশাসনিক মহলের।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাজ্যের নির্দিষ্ট বরাদ্দ মিলিয়ে এই প্রকল্পে ৪২৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেই বছর পর্যন্ত বরাদ্দের ৮৭ শতাংশের বেশি খরচ করে প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে বাংলা দেশের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে এক নম্বরে ছিল। তা সত্ত্বেও রাজ্যের বরাদ্দ বন্ধ হওয়ায় বিস্মিত হয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের ১৫৮টি ব্লক, ১৫টি টাউন এবং ১০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা সদরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্য, নিকাশি, পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং আয়বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৬৮৭ কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল রাজ্য। পাঁচ বছর পড়ে থাকার পর সেই প্রস্তাবের আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রের তৈরি নতুন একটি পোর্টালে নতুন করে প্রস্তাব পাঠাতে বলায় সেই আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। নয়া প্রস্তাব খতিয়ে দেখে চলতি অর্থবর্ষে টাকা বরাদ্দের বিষয়টি কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রকল্পের অনুমোদন মেলেনি। ফলে এই খাতে একটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি কেন্দ্রের তরফে। রাজ্যের প্রশাসনিক মহল মনে করছে, এবার টাকা দিলেও আগের থেকে তা অনেক কম হবে। যেখানে রাজ্যে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার কাজ হতো, তা ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। ২০২০-২১ সালের আগে স্টেট নোডাল অ্যাকাউন্টের বদলে টাকা আসত ট্রেজারিতে। সেই টাকার হিসেব তিন-তিনবার পাঠানোর পরেও কেন্দ্র আবার তা মিলিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে বলে খবর। এই একই কারণে অন্যান্য রাজ্যের প্রাপ্যও আটকে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর জন্য টাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু, তা আর কতদিন? সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই রাজ্য প্রশাসন।