নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছেলের পাতে তখনও ভাত শেষ হয়নি। তার মধ্যেই চরমে ওঠে বাবা-মায়ের ঝগড়া। তা এতটাই বাড়াবাড়ি আকার নেয় যে, আক্রোশের বশে টেবিলে রাখা ফল কাটার ছুরি হাতে তুলে নেন গৃহবধূ এবং সেই ছুরি সটান বসিয়ে দেন স্বামীর বুকে। হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হয় গৃহকর্তার। মৃতের নাম অশোককুমার দাস (৪৮)। ঘটনাটি ঘটেছে মুচিপাড়া থানা এলাকার লেবুতলা পার্কের কাছে। গোটা ঘটনা ঘটেছে নাবালক ছেলের সামনেই। সে ইতিমধ্যেই পুলিশকে বয়ান দিয়েছে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করেছে মুচিপাড়া থানার পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, খুনের ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত করা হচ্ছে। লেবুতলা পার্কের কাছেই ২৫ নম্বর শশীভূষণ দে লেনের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকে দাস পরিবার। স্ত্রী শ্রাবণী ও ১৪ বছরের ছেলেকে নিয়ে দোতলার ঘরে থাকতেন অশোকবাবু। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। ধর্মতলায় তাঁর অফিস। প্রতিবেশীদের দাবি, মাঝেমধ্যেই অশোক ও শ্রাবণীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এই অশান্তির কারণ কী? স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উচ্চস্বরে ঝগড়ার মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের কথাও উঠে আসত। শ্রাবণী কোনও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি বাড়ি প্রোমোটিং নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ চলছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। যদিও পুলিশের দাবি, ছেলের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। সেই আওয়াজ প্রতিবেশীদের কানেও পৌঁছোয়। আচমকা থেকে যায় অশোকের চিৎকার। এরপর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান শ্রাবণী। সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। ঘরের দরজা খোলাই ছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহকর্তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁরাই ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে এনআরএস মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান তাঁরা। বুধবার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় অশোকবাবুর। হাসপাতাল সূত্রে খবর পায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অশোকের বুকে ছুরির আঘাত রয়েছে। ছুরিটি অত্যন্ত ধারালো ছিল। তার জেরে হৃদপিণ্ড ভেদ করে ঢুকে যায় সেটি। রক্ত জমাট বেঁধেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের কেউ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি থানায়। তাই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবেই খুনের মামলা রুজু করেছে।
লালবাজার জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি পাওয়া গিয়েছে। খুব সম্ভবত সেটি দিয়েই খুন করা হয়েছে। তবে ছেলের বয়ানকে ভিত্তি করে শ্রাবণীর আঙুলের ছাপের সঙ্গে ছুরিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ‘ম্যাচ’ করার কথা ভেবেছেন তদন্তকারীরা। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।