


লখনউ: স্ত্রীর খোরপোশ দিতে আইনগতভাবে বাধ্য স্বামী। কোনো কারণে স্বামীর মৃত্যু হলে সেই দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলা যায় না। এক্ষেত্রে মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে খোরপোশের দাবি করতে পারেন বিধবা স্ত্রী। যদি তা যথেষ্ট না হয়, তাহলে শ্বশুরের কাছ থেকেও ভরণপোষণ নেওয়ার যোগ্য তিনি। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। পারিবারিক আদালতের খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিনকয়েক আগে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অকুল রাস্তোগী নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলায় এমনই জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম সিনহা ও বিচারপতি সত্য বীর সিংয়ের বেঞ্চ।
ভরণপোষণ নেওয়ার লোভে আদালতে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে স্ত্রী। আর স্ত্রীর কথা শুনে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একতরফা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রামপুর পারিবারিক আদালত। এমনই অভিযোগ ছিল অকুল রাস্তোগীর। দিনকয়েক আগে পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার করার অনুমতিও চেয়েছিলেন। অকুলের আইনজীবীর বক্তব্য, খোরপোশের লোভে একের পর এক মিথ্যা কথা বলেছেন তাঁর মক্কেলের স্ত্রী। কর্মরত হয়েও নিজেকে সাধারণ গৃহিনী হিসাবে দাবি করেছেন। ওই মহিলার নামে দু’টি ব্যাংকে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি এফডি রয়েছে। জবাবে স্ত্রীর বক্তব্য, ‘আমার বাবা আমার নামে এফডি করেছিলেন। তাও অধিকাংশ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এখন মাত্র ৪ লক্ষ টাকা পড়ে আছে।’
সবটা শোনার পর আদালতের বক্তব্য, তথ্য গোপনকে মিথ্যা বিবৃতি হিসাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। মেয়ের বাবা এফডি করেছিলেন। বিয়ের পর মেয়ের খরচ চালানোর কোনো দায়বদ্ধতা নেই বাবার। এক্ষেত্রে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে বাধ্য। এমনকি শ্বশুরের কাছ থেকেও ভরণপোষণ চাওয়ার অধিকার রয়েছে মহিলার। শেষমেশ ব্যক্তির আবেদন খারিজ করার পাশাপাশি পারিবারিক আদালতের নির্দেশই বহাল রাখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে অন্য একটি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ছেলের অবর্তমানে শ্বশুর-শাশুড়িকে খোরপোষ দিতে আইনিভাবে বাধ্য নয় পুত্রবধূ।