আইন কখনও কারও কাজের অনীহা বা আলস্যকে প্রশ্রয় দেয় না। তাই শিক্ষিত ও কর্মক্ষম স্ত্রী তার স্বামীর কাছে ভরণপোষণের অর্থ দাবি করতে পারে না।
আইন কখনও কারও কাজের অনীহা বা আলস্যকে প্রশ্রয় দেয় না। তাই শিক্ষিত ও কর্মক্ষম স্ত্রী তার স্বামীর কাছে ভরণপোষণের অর্থ দাবি করতে পারে না।
বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় আবেদনকারী এক মহিলার রায় খারিজ করে দিয়ে ঠিক এমনই এক পর্যবেক্ষণ শোনাল দিল্লি হাইকোর্ট। গত ১৯ মার্চ এই মামলা প্রসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি চন্দ্র ধারি সিং বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ধারায় স্বামী ও স্ত্রীর সুরক্ষায় সাম্য রক্ষার কথা আছে। সন্তান ও পিতামাতার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। কিন্তু ভারতীয় এই দণ্ডবিধি কখনওই কুঁড়েমি বা আলস্যকে উৎসাহ দেয় না। সূত্রের খবর, ২০১৯ সালে বিয়ের পর এক দম্পতি সিঙ্গাপুরে চলে যান। আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর অত্যাচার চালাতেন। অতিষ্ঠ হয়ে দু’বছরের মধ্যে ২০২১ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। নিজের গয়না বেচে তাঁকে দেশে ফিরতে হয়েছে। তারপরেই তিনি স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ চেয়ে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। এর আগে নিম্ন আদালতেও ভরণপোষণের আর্জি নাকচ হয়ে যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। রায় শোনাতে গিয়ে বিচারপতি ধারি সিং বলেন যে, একজন শিক্ষিত নারী, যিনি ভালো বেতনের উপযুক্ত চাকরি করতে পারেন বা যাঁর এমন চাকরি করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, তিনি শুধু স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ লাভের আশায় আজীবন কর্মহীন হয়ে অলস বসে থাকবেন, আদালত তা সমর্থন করে না। তাই মামলার অন্তর্বর্তী খোরপোশের বিষয়টিকে খারিজ করে দিচ্ছে উচ্চ আদালত। কারণ আদালত দেখেছে আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। বিয়ের আগে দুবাইয়ে ভালো বেতনের চাকরি করতেন।
বিচারপতি ধারি সিং তাঁকে চাকরি করাতেও উৎসাহ দেন। স্বনির্ভরতার গুরুত্ব বুঝিয়ে সক্রিয়ভাবে চাকরির খোঁজখবর নিতে বলেন। বলেন, ‘আপনি একজন সুশিক্ষিতা। এর আগেও আপনি ভালো চাকরি করেছেন। নিজে উপার্জন করে সুস্থভাবে বাঁচুন। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য প্রাক্তন স্বামীর মুখাপেক্ষী থাকবেন কেন!’ যদিও মহিলার দবি ছিল, তিনি বর্তমানে বেকার ও তাঁর স্বামী ভালো রোজগার করেন। তবু হাই কোর্ট সেই দাবি খারিজ করে তাঁকে রোজগারের পথে এগতে বলেন।