নয়াদিল্লি ও শ্রীনগর: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর গোয়েন্দা ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলছেন অনেকে। কিন্তু, এই নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, পহেলগাঁওতে হামলার কয়েকদিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটনস্থলে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গোয়েন্দারা। সেইমতো তথ্যও দেওয়া হয়। তাহলে ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ বৈসরণ কেন অরক্ষিত ছিল? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই হামলার ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। ওই সময় ঘটনাস্থলে বা তার কাছাকাছি থাকা শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন আধিকারিকরা। সেইসূত্রে এক দোকানদারের খোঁজ মিলেছে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি দিন ১৫ আগেই সেখানে দোকান খুলেছিল। কিন্তু, ২২ এপ্রিল অর্থাৎ হামলার দিন তাকে আর দোকান খুলতে দেখা যায়নি। এখন এনআইএর স্ক্যানারে ওই দোকানদার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে তার ইন্টারনেট প্রোটোকলের বিবরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, হামলার সময় বৈসরণে উপস্থিত সমস্ত স্থানীয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছে এনআইএ। ধরে ধরে তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন দোকানদার, ফোটোগ্রাফার, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের যুক্ত কর্মী, ঘোড়া চালকও।
২২ এপ্রিল জঙ্গি হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ২৬ জন। ঘটনার পর প্রায় দু’সপ্তাহের বেশি কেটে গিয়েছে। কিন্তু, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সেদিনের হত্যালীলার জন্য বারবার গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তথ্য বলছে, পর্যটকদের উপর হামলার আশঙ্কা ছিল। সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, জাবরওয়ান রেঞ্জের পাদদেশে বিভিন্ন হোটেলে থাকা পর্যটকদের নিশানা করতে পারে জঙ্গিরা। সেইমতো শ্রীনগরের আশপাশের দাচিগাঁও, নিশাত সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়। গত বছর অক্টোবরে সোনমার্গের গনগনগীর এলাকায় সন্ত্রাসবাদী হানায় চিকিৎসক সহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। জাবরওয়ান রেঞ্জের উল্টোদিকে হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু, বৈসরণে সেই চিত্র দেখা যায়নি। এমনকী, বহু পর্যটকের দাবি, দূরদূরান্ত পর্যন্ত সেনা-জওয়ান বা পুলিস নজরে আসেনি। ফলে জঙ্গিরা বিনা বাধায় গুলি চালিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। সূত্রের খবর, গত মাসেই কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ট্রেনের সূচনা করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেই সময়ই উপত্যকায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। কিন্তু, খারাপ আবহওয়ার জন্য সেই কর্মসূচি পিছিয়ে যায়।



