নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরও ছুটি কমল স্কুলের গ্রীষ্মাবকাশে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মঙ্গলবার যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, রবিবার বাদে মাত্র ছ’দিন গরমের ছুটি দেওয়া হয়েছে। গতবার তা ছিল ১১দিন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তাপপ্রবাহের কারণে সরকারি নির্দেশে যে ছুটি কোনও কোনও বছর দেড় মাসও হয়ে যায়, সেটিকে খাতায়-কলমে ছ’দিন রাখার যুক্তি নেই। পরবর্তীতে এই লম্বা ছুটি আর কোনও ছুটির সঙ্গে ‘অ্যাডজাস্ট’ও করা যায় না। ফলে এই ছুটি হিসেবের বাইরেই থেকে যায়। আর এর প্রভাব পরে শিক্ষাবর্ষের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার ক্ষেত্রে।
পর্ষদের এক আধিকারিক অবশ্য বলছেন, সরকারি কিছু ছুটি বাড়ার ফলে সেগুলিকে হলিডে লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে। যার ফলে কোপ পড়েছে গরমের ছুটিতে। তাহলে পুজোর ছুটি রবিবার বাদে ২৫ দিন কেন রাখা হল? তার ব্যাখ্যা অবশ্য মেলেনি। তবে, এতেও অলিখিত সরকারি নির্দেশ রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এর পাশাপাশি উঠছে অন্য প্রশ্নও। পর্ষদের ছুটির তালিকায় রয়েছে স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, নেতাজি ও রবীন্দ্রজয়ন্তী। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘পর্ষদের নির্দেশে এই চারটি দিন স্কুলে অবশ্য পালনীয় বলা হয়েছে। তাই এগুলিকে ছুটি হিসেবে গ্রাহ্য করা উচিত নয়। কারণ স্কুল খোলা রেখেই এগুলি পালন করতে হয়।’
অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও গরমের ছুটি আরও কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করেছে। সংগঠনের সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, ‘প্রতি বছরই মোট ছুটি ৮৫ দিন অতিক্রম করে যাচ্ছে। সেই কারণে, ৬৫ দিনের পরিবর্তে আগের মতোই ৮৫দিন ছুটি ঘোষণা করা হোক। তাতে গরমের ছুটি বাড়ানো যাবে। আগাম ছুটি ঘোষণা করা থাকলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারও ঠিক থাকবে।’ শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, মোট দিনসংখ্যা ঠিক রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী কবে, কতদিন ছুটি দেওয়া হবে সেই স্বাধীনতা স্কুলগুলির হাতে আরও বাড়ানো উচিত। সেক্ষেত্রে বার বার পর্ষদ বা সরকারকেও পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিতে হয় না।