Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

অল্পবয়সিদের মধ্যে ঘাড়ে ব্যথা এত বাড়ছে কেন?

স্কুলে কাঁধে ভারি ব্যাগ নিয়ে দৌড়ানো, ছবি আঁকার ক্লাস আছে, অতএব দৌড়াও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে

অল্পবয়সিদের মধ্যে ঘাড়ে ব্যথা এত বাড়ছে কেন?
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনেকেই প্রশ্ন করেন, আজকাল অনেক কম বয়স থেকেই ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথা বেশি হচ্ছে কেন? 
ছোট থেকে বড় যার দিকেই তাকান না কেন, দেখবেন সকলেই এখন প্রবল স্ট্রেস-এ ভুগছে। খুদে খুদে ছেলেমেয়েরাও এখন ইঁদুর দৌড়ে শামিল। স্কুলে কাঁধে ভারি ব্যাগ নিয়ে দৌড়ানো, ছবি আঁকার ক্লাস আছে, অতএব দৌড়াও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে। পড়াশোনার চাপে এই ব্যাগের ওজন দুর্ভাগ্যক্রমে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। যে চাপ শরীরের পেশিকে ক্রমশ দুর্বল করে ফেলে। এই কথা  শিশুদের সঙ্গে ক্লাস টেন-টুয়েলভ ও কলেজের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ একটু বড় হলেই নিট, ইউপিএসসি পরীক্ষা পাশের চাপ পড়ে যায়। সেখানেও স্ট্রেস-এর কমতি নেই।
আবার চাকরি পাওয়ার পরেও কি শান্তি আছে? ডেডলাইন মিস করার ভয়, উপরওয়ালার ধাতানি! সব মিলিয়ে সবসময় স্ট্রেস-এ থাকা।
এই স্ট্রেস সরাসরি পেশির উপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার  আধুনিক ব্যস্ত এই জীবনযাপনের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ ব্যায়াম করার সময় পান না। এর ফলে পেশির যে নমনীয় ভাব এবং শরীরকে সক্রিয় রাখার যে প্রবণতা তা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এর ফলে পেশির সঙ্গে যুক্ত শরীরের অন্যান্য সফট টিস্যু এবং হাড়ের গঠনেরও পরিবর্তন ঘটতে থাকে ধীরে ধীরে। 
যে পরিবর্তন শিরদাঁড়ার ভার্টিব্রাতেও দেখা দেয়। লিগামেন্ট, ফ্যাসিয়া (মাসল ফাইবারের আবরণ, পেশি, স্নায়ু এবং হাড়ের পাশে থাকা একটি সংযোগকারী টিস্যুর জাল যা শরীরের নানা অংশের গঠন ধরে রাখতে সাহায্য করে) এবং দুটি ভার্টিব্রার মাঝে থাকা ডিস্ক-এও পরিবর্তন ঘটে। মোট কথা একজন ব্যক্তির শারীরসংস্থান যেমন হওয়া দরকার তা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে।
ওদিকে প্রতিদিনের স্ট্রেসপূর্ণ জীবন কিন্তু বদলায় না। ফলে স্পাইনের গঠনগত দিক থেকে অনেক বদল দেখা যায়। স্পাইনে দুই ধরনের কার্ভেচার থাকে। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কার্ভেচার। গঠনগত আকারের পরিবর্তনের ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাপ পড়তে থাকে স্পাইনের বিভিন্ন অংশে।
ডিস্ক-এর মধ্যে প্রেশার বাড়ে। এর ফলে ডিস্ক-এর সন্নিহিত যে নার্ভ, সেই নার্ভের মধ্যেও চাপ পড়ে। এই চাপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তবাহী নালীগুলিও কখনও কখনও সংকুচিত হয়। পেশিতে রক্ত সঞ্চালনের অভাবে ঘটে। পেশি ক্রমশ কমজোরি হতে থাকে। এর সঙ্গে পেশিগুলিতে খনিজ এবং ইলেকট্রোলাইটস-এর ভারসাম্যেরও অভাব দেখা যায়। ফলে স্নায়ু যেভাবে পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই বিষয়টিতেও দেখা যায় জটিলতা। 
উপসর্গস্বরূপ ডিস্ক প্রোলাপ্স, পেশির উপর নট বা ট্রিগার পয়েন্ট তৈরি হয়। ফ্যাসিয়া ক্রমশ শক্ত হতে থাকে। এবং আস্তে আস্তে যন্ত্রণা শুরু হয়।
রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষাগুলি করালে দেখা যায় রোগী স্পন্ডাইলোসিস, স্পন্ডাইলোলাইসিস, অস্টিওফাইটস ফরমেশন, ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, নেক টর্টিকোলিস, থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম, কোমরে ব্যথা ইত্যাদি নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সব জটিল রোগের কারণে রোগীর ঘাড়ে, কাঁধে অথবা হাতের সঞ্চালনে সমস্যা হয়। দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হয়।
এছাড়া ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি টুয়েলভ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম-এর ঘাটতিও তৈরি করতে পারে পেশি ও অস্থির দুর্বলতা। অনেকসময় অস্থির ক্ষয়ও হয়ে থাকে। ফলে শরীরের দুর্বলতা ও যন্ত্রণা নিত্যদিন জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।

Advertisement

 

সুস্থতার পথ

খুব সোজা পথ। শুধু নিয়ম মেনে চলতে হবে প্রতিদিন। যে ঝামেলাই আসুক না কেন, যে সমস্যাই হোক না কেন, নিয়মের বাইরে যাওয়া চলবে না।
 সুষম খাদ্য খেতে হবে।
 বসা, শোওয়া, কাজ করা অথবা দৈনন্দিন জীবনযাপনে ঘাড়ের সঠিক ভঙ্গিমা মেনে চলতে হবে। 
 ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুসারে রুটিন মাফিক ঘাড়ের ব্যায়াম করা দরকার।
 স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় থেরাপির সাহায্য নিতে পারেন। ধ্যান, যোগাভ্যাসও করতে পারেন।

চিকিত্‍সা

এই ধরনের সমস্যা আজকাল নিত্যদিনের জটিলতা তৈরি করছে। আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই রোগের চিকিত্‍সা করা সম্ভব। এই ধরনের অসুখ মানেই অপারেশন নয়। উন্নত ধরনের ম্যানুয়াল থেরাপিস্টের সাহায্যে মায়োফ্যাসিয়াল রিলিজ, সার্ভাইকো থোরাসিক ফ্যাসিয়াল রিলিফ, মিটল্যান্ড, মুলিগান মোবিলাইজেশন টেকনিকের মাধ্যমে স্পাইনের ভার্টিব্রার সচলতা বা কখনও কখনও মানিপুলেশন টেকনিকের মাধ্যমে ভার্টিব্রার মোবিলাইজেশন এবং স্ট্রেন্থনিং বা জয়েন্টের মুভমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব অতি সহজেই। বেশিরভাগ রোগীই সারা পৃথিবীতেই এই পদ্ধতিগুলির সাহায্যেই সমস্যামুক্ত হয়েই জীবনযাপন করছেন।

লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ