নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত এবং সংবাদদাতা, তারকেশ্বর ও কল্যাণী: ‘দাড়ি কাটিসনি কেন? দেখতে তো জঙ্গিদের মতো লাগছে!’ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের এক ইন্টার্নকে উদ্দেশ্য করে সেখানকারই এক সহকারী অধ্যাপক গত বুধবার এই মন্তব্য করেন। তাই নিয়ে বুধবার তুলকালাম চলে মেডিক্যালে। অবিলম্বে ওই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের অফিসের বাইরে এদিন বিক্ষোভে সোচ্চার হন জুনিয়র ডাক্তাররা।
শনিবার ওই ইন্টার্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করেন। ওইদিনই ঘটনার তদন্তে সুপার তথা উপাধ্যক্ষ, ডেপুটি সুপার এবং একাধিক বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক চিকিৎসককে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে মেডিক্যাল। আজ বৃহস্পতিবার কমিটি বৈঠকে বসবে। উপস্থিত থাকতে পারেন অভিযুক্ত শিক্ষক চিকিৎসকও। এমনই জানা গিয়েছে মেডিক্যাল সূত্রে। এদিকে বুধবার বিক্ষোভ চলাকালীন ইএনটি’র ওই অভিযুক্ত শিক্ষক চিকিৎসক ছাত্রছাত্রীদের কাছে ‘জঙ্গি’ শব্দটি ব্যবহারের জন্য মৌখিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চান। মেডিক্যালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী বলেন, শতাব্দীপ্রাচীন মেডিক্যাল কলেজ বরাবরই সর্বধর্ম, সমস্ত ধরনের সংস্কৃতি, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থানকে মর্যাদা জানিয়ে এসেছে। সেখানে এই ধরনের মন্তব্য একেবারেই অনভিপ্রেত। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে আচার, আচরণ ও মন্তব্যে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তদন্ত কমিটি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মৌখিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। দেশবিরোধী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগে আলমগির খান নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিস। তারকেশ্বর থানার পুলিস সামসুদ্দিন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তিকে ওই একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। তালিকায় রয়েছে এক মহিলাও। পাকিস্তানের সমর্থনে রিলস পোস্ট করার অভিযোগে চাকদহ থানা সারজিনা সাহাজি নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।