শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: অতি ক্ষুদ্র হলেও এক দল উইপোকা কলকাতা হাইকোর্টকে সরাসরি প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মামলাকারী তো বটেই, বিব্রত বিচারপতি স্বয়ং। মাথাব্যথার কারণ, মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য যে নথির প্রয়োজন, তার গোটাটাই বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে উইপোকার দল। উইপোকার এই কৃতকর্মের দায় এখন কার? এই প্রশ্নে এবার একযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। বিচারপতির প্রশ্ন, কোনও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর নথি সরকারি হেফাজতে থাকাকালীন যদি উইপোকায় তা নষ্ট করে দেয়, তাহলে দায় কার? সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর পরিবার-পরিজন কী তাহলে ওই ব্যক্তির অবসরকালীন সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন? এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন প্রশ্ন আদালতের? জানা গিয়েছে, মামলাকারী শম্পা মল্লিকের বাবা সুধীরচন্দ্র মল্লিক কেন্দ্রীয় সরকারের ভারী শিল্পমন্ত্রকের অধীনে থাকা ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে অবসর নেন। সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস (পেনশন) রুল অনুযায়ী তিনি পেনশন পাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালের পয়লা জানুয়ারি ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট লিমিটেড অধিগ্রহণ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আইনেই পেনশন পেয়ে গিয়েছেন সুধীরবাবু। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের ফ্যামিলি পেনশন স্কিম ১৯৬৪ অনুযায়ী, পেনশন পেতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন জানান সুধীরবাবুর মেয়ে তথা মামলাকারী শম্পা মল্লিক। ভারী শিল্পমন্ত্রক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ই মামলাকারীর আবেদন নাকচ করে জানায়, তিনি পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শম্পাদেবী।
বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী জানান, অধিগ্রহণের সময় কোম্পানির তরফে যে সমস্ত নথি দেওয়া হয়েছিল তাঁর বেশিরভাগই উইপোকায় কাটা, নষ্ট। যে কারণে সুধীরবাবুর কর্মজীবনের আসল ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ফাইল না মিললে পারিবারিক পেনশনের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। কেন্দ্রও একযোগে জানায়, ওই ফাইল তাদের কাছে নেই। এই বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তাহলে উইপোকার এই কৃতকর্মের দায় এখন কার? এই প্রশ্নেই আপাতত যাবতীয় তথ্য সহ কেন্দ্রীয় সরকার ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মুখোপাধ্যায়। চলতি মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি।