Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটার লিস্টের কারা বাদ যাবে বিজেপি ঠিক করার কে: মমতা

বিহারের পর টার্গেট বাংলা! ‘শাসকের দম্ভে’ এটাই স্পষ্ট করে চলেছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। এমনকী দাবি করছেন, বিহারে ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশনে ৩৫ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে।

ভোটার লিস্টের কারা বাদ যাবে বিজেপি ঠিক করার কে: মমতা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারের পর টার্গেট বাংলা! ‘শাসকের দম্ভে’ এটাই স্পষ্ট করে চলেছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। এমনকী দাবি করছেন, বিহারে ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশনে ৩৫ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। বাংলায় ১৭ লক্ষ নাম বাদ যাবে। বিরোধীরা সরব হয়েছে, তাহলে কি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার খেলায় নেমেছে গেরুয়া শিবির? অনুপ্রবেশকারীর তকমা লাগিয়ে এরাজ্যের দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দল? এই সব প্রশ্ন সামনে রেখেই বুধবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘রাজ্যের বাসিন্দারা রাজ্যেই ভোট দেবেন। কীভাবে ওরা বলছে ১৭ লক্ষের নাম বাদ দিয়ে দাও!’ বিজেপির নাম না করে তাঁর হুঙ্কার, ‘কে তোমরা? কোন হরিদাস? যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে বাস করেন তাঁদের নাম কেন বাদ যাবে? কার নাম বাদ যাবে, সেটা ওরা ঠিক করার কে? মনে রাখতে হবে, এটা বাংলা। লড়াই ছাড়া এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না।’ 

Advertisement

বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বিরুদ্ধে ভিন রাজ্যে হওয়া আক্রমণের বিরুদ্ধে বুধবার পথে নেমেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলীয়ভাবে এর প্রতিবাদ করার পাশাপাশি বুধবার নিউটাউনে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেও বাংলার মানুষকে হেনস্তা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গেল, ‘ভারতের নাগরিক হিসেবে কেউ যেখানে খুশি যেতে পারে। যেখানে খুশি থাকতে পারে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে! কিন্তু আমার প্রশ্ন, রোহিঙ্গারা তো আসলে মায়ানমারের লোক। তাহলে ওরা বাংলায় কথা বলবে কী করে? বাংলার বাসিন্দাদের হেনস্তা করার বিজ্ঞপ্তি যারা জারি করেছেন, তারা আগে এই প্রশ্নের উত্তর দিন।’
রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের নামে বাংলার ১৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলেও জোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে রাজ্যের শাসক দলের তরফে। এদিন এর বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রীও। শুধু রাজনীতি করার জন্য এসব মিথ্যা তথ্য সামনে না আনার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ করছি, রোহিঙ্গা তত্ত্ব যদি সত্যি হয়, তাহলে তারা রাজ্যের কোথায় বাস করছে, সেই ঠিকানা দিন। বলুন ওঁরা কোথায় বসবাস করছেন।’
ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে ‘কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি’ মেনে বাংলায় কথা বললেই পুশব্যাক করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ, নানা ভাষাভাষী ও সম্প্রদায়ের মানুষ কোনও সমস্যা ছাড়াই বাংলায় স্বস্তিতে বসবাস করছেন। মমতার দাবি, সেটাই সহ্য হচ্ছে না গেরুয়া শিবিরের। বিভেদের রাজনীতির মাধ্যমে এই সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করে দিতে চাইছে ওরা। সেইসঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে মমতার খোঁচা, ‘মনে রাখবেন, রাজনীতি করতে গেলে আগে মনটাকে ঠিক করতে হবে। রাজনীতির লোকেরাই সরকার চালায়। তাঁরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন না হলে ভালো সরকার চালানো সম্ভব নয়। সরকার চালাতে গেলে মগজ মরুভূমি হলে চলবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ