Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর পর্বে কে কেমন কাজ করলেন, ৬ ডিসেম্বর নেত্রীকে রিপোর্ট দেবেন অভিষেক

জ করতে না পারলে পদে থেকে চেয়ার গরম করার কোনও দরকার নেই। দলের বৈঠকে এই বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এসআইআর পর্বে কে কেমন কাজ করলেন, ৬ ডিসেম্বর নেত্রীকে রিপোর্ট দেবেন অভিষেক
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাজ করতে না পারলে পদে থেকে চেয়ার গরম করার কোনও দরকার নেই। দলের বৈঠকে এই বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার বাকি দিনগুলিতে তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কেমন কাজ করছেন, তার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পারফরম্যান্স বা যোগ্যতার নিরিখে আগামী ৬ ডিসেম্বর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে একটি রিপোর্ট তুলে দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বিধানসভা ভিত্তিক বুথগুলিতে কেমন কাজ করেছেন নেতারা। যাঁরা দলের স্বার্থে ভালো কাজ করবেন না, তাঁদের কপালে আগামী দিনে শাস্তির খাঁড়া অপেক্ষা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই এখন থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নেতাদের শিড়দাঁরায় বইছে ঠান্ডা স্রোত!

Advertisement

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর। তার আগে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়ার শেষদিন। এই ইনিউমারেশন ফর্ম ১০০ শতাংশ জমা দেওয়ার উপর বারবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ফর্ম দেওয়ার কাজে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার নির্দেশ দেন তিনি। এই ফর্ম ফিলাপ ১০০ শতাংশ করার পিছনে বাস্তব কারণ দেখছে কূটনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে যুক্তি, ফর্ম কেউ জমা না দিলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে বিস্তর সমস্যায় পড়বেন। নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবলভাবেই থাকছে। অন্যদিকে ফর্ম দেওয়ার পর কোনও ব্যক্তির শুনানিতে ডাক পড়লে, তখন তাঁকে প্রয়োজনমতো কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দিয়ে সহযোগিতা করা যাবে। কিন্তু সবার আগে জরুরি ইনিউমারেশন ফর্মটা ঠিকমতো জমা দেওয়া। 
কিন্তু এই ফর্ম দেওয়া রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় খুব কম শতাংশ হয়েছে, তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে। এই কারণে গত ২৪ নভেম্বর তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকে কড়া বার্তা দেন অভিষেক। কলকাতার বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রসহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় ফর্ম জমার হার আশানুরূপ নয়। সেই কারণে ১১ মন্ত্রীসহ ১৪জনকে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই জেলায় গিয়ে নেতারা স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চেষ্টা করছেন তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের সক্রিয় করতে। আর সেইসঙ্গে চলছে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার হার বৃদ্ধি করা। 
দলীয় সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিম জেলাভিত্তিক নজরদারি চালাচ্ছেন। সাংসদ, বিধায়ক, দলীয় পদাধিকারীরা কেমন কাজ করছেন, তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলার ভোটরক্ষার যে শিবিরগুলি চলছে, সেখানে তৃণমূলের কোন কোন নেতা যাচ্ছেন, দলের জন্য কতক্ষণ সময় দিচ্ছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক তথ্যের ভিত্তিতেই অভিষেক একটি রিপোর্ট তৈরি করে নেত্রীর হাতে আগামী ৬ ডিসেম্বর তুলে দেবেন। কার কপালে শাস্তি অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখন থেকে তৃণমূল নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ