মুম্বই: মালেগাঁও বিস্ফোরণে সাত অভিযুক্তকেই বেকসুর ঘোষণা করেছে আদালত। এই রায়ে জোর ধাক্কা খেয়েছেন ৭৫ বছর বয়সি নিসার বিলাল। ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মালেগাঁও বিস্ফোরণ কেড়ে নিয়েছিল তাঁর ১৯ বছরের ছেলে আজহারকে। বাড়ি ফেরার পথে মসজিদ ঘুরে আসাই তাঁর কাল হয়েছিল। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে গত ১৭ বছর ধরে সুবিচারের আশায় ছিলেন সন্তানহারা বৃদ্ধ বাবা। কানে শুনতে পান না। তবু ১১ অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার পর দৌড়োদৌড়ি করেছেন বিভিন্ন আদালতে। তাঁর সব আশা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। কাঁপা কাঁপা গলায় নিসার প্রশ্ন তুলছেন, ‘তাহলে বিস্ফোরণ ঘটাল কে? আশা করেছিলাম, আজ না হোক কাল ন্যায়বিচার পাব। আজকের রায় আমার সব মনোবল ভেঙে দিয়েছে।’
মালেগাঁও বিস্ফোরণে নিহত সর্বকনিষ্ঠ ছিল লিয়াকত শেখের ১০ বছরের মেয়ে ফারহিন। চিপস কিনতে বেরিয়েছিল সে। গত দু’দশক ধরে ন্যায়বিচারের আসায় মুম্বই যাতায়াত করতেন পেশায় গাড়িচালক ৬৭ বছর বয়সি লিয়াকত। এদিজনের রাতের পর নাতনিদের সঙ্গে হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আক্ষেপের সুরে বলছিলেন, ‘আমার জীবন তো শেষ হয়ে এল। ভেবেছিলাম, অভাগা মেয়েটা আমার সুবিচার পাবে? কিন্তু এদিনের রায় আমাকে কখনও শান্তিতে থাকতে দেবে না!’
সবার অবস্থা আবার লিয়াকতদের মতো নয়। নিহত শেখ রফিক, ইরফানদের পরিবার অবশ্য ন্যায়বিচারের কথা কবেই ভুলে গিয়েছে। নিদারুণ দারিদ্র্য, বাকি পরিবারের ভার মাথার উপর নিয়ে মামলার তারিখ মনে থাকেনি রফিকের ছেলে বাসচালক রেহান কিংবা ইরফানের কাকা উসমানের। তাঁরাও এদিনের রায়ে মর্মাহত। সকলেরই প্রশ্ন, তাহলে বিস্ফোরণ ঘটাল কারা? প্রথম থেকেই বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের হয়ে লড়াই চালিয়ে আসছে কুল জামাত-ই তানজিম নামে একটি সংগঠন।
এদিন সংগঠনের পক্ষে ফিরোজ আহমেদ আজমি বলেন, ‘এঁরা যদি বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে কারা জড়িত ছিল? তদন্তকারীদের উচিত এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা।’ আদালতের রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, এটিএসের তদন্ত নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।