নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দু’বছর হয়ে গেল চলছে মামলা। তবুও উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে এখনও জট কাটল না। ‘কেন কাটছে না? কোথায় সমস্যা?’ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ মামলায় বৃহস্পতিবার এর উত্তর জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। আজ, শুক্রবার ফের শুনানি বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতীর মতো রাজ্যের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়নি। কে হবেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেছে নেওয়া প্রার্থীকে যোগ্য মনে করছেন না আচার্য তথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। কেন তাঁর আপত্তি, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রার্থী ধরে ধরে রিপোর্টও তৈরি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে আইনজীবী মারফত জমা দিয়েছেন আচার্য। তাঁর আইনজীবী হিসেব এদিন সুপ্রিম কোর্টে হাজির ছিলেন দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি এবং জয়দীপ মজুমদার। তাঁরা বলেন, দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের সভাপতিত্বে উপাচার্য নিয়োগের সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় পিছু তিনটি করে নাম প্রস্তাব করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। সেখান থেকে তাঁর পছন্দের নাম বেছে সেই ফাইল পাঠানো হয়েছে আচার্যর কাছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বেছে নেওয়া নামের সঙ্গে সহমত হননি সি ভি আনন্দ বোস। কেন আপত্তি, তা মুখবন্ধ খামে রয়েছে।
যা শুনে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত বলেন, এভাবে নিয়োগে বিলম্ব করলে পড়ুয়াদের সমস্যা হচ্ছে। ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭টিতে সমস্যা রয়েছে। আর যেগুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়নি, সেখানেই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। তাই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যেপাধ্যায় বলেন, উপাচার্য না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি সূর্য কান্ত আচার্যর আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, ‘আপনরা কি এই রিপোর্ট উদয় উমেশ ললিতকে দিয়েছেন? তিনিই তো সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান। সবার আগে তাঁর জানা উচিত। তাঁরও মতামত প্রয়োজন।’ তারপরই বলেন, ‘ঠিক আছে, আদালতে জমা করুন। আমরা ওনাকে পাঠিয়ে দেব।’



