রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ইতিহাস ছিল সঙ্গী, হাজারো স্মৃতির জাল বোনা হয়েছিল হলং বন বাংলোকে কেন্দ্র করে। নেতা, মন্ত্রী, আমলা থেকে সাধারণ ভ্রমণপিপাসু, অনেকেরই পছন্দের সেরা গন্তব্য ছিল জলদাপাড়ার এই বাংলো। স্নিগ্ধ শীতল পরিবেশে কয়েকদিন ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে এটি। কিন্তু গতবছর অগ্নিকাণ্ডের পর ধূলিস্যাৎ হয়ে যায় বন বাংলোটি। সেটি আবার কবে তৈরি হবে, কবে পর্যটকদের ভিড়ে নয়া ইতিহাস লেখা হবে, তারই অপেক্ষা।
দিনটা ছিল ২০২৪ সালের ১৮ জুন, মঙ্গলবার। আচমকাই আগুন লাগে জলদাপাড়ার হলং বন বাংলোতে। কাঠের বাড়ি হওয়ায় এবং যে ধরনের পালিশ করা ছিল, তাতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসলীলা ভয়াবহ আকার নেয়। মুহূর্তের আগুনে ধূলিস্যাৎ হয়ে যায় পুরো বাংলোটি। পর্যটকশূন্য অবস্থায় হঠাৎ কী করে আগুন লাগল, তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় তুমুল চর্চা। কারণ অনুসন্ধানের জন্য বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গড়া হয়েছিল। তাদের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, সুইচ বোর্ডের পিছন দিয়ে ইঁদুর ঢুকে বৈদ্যুতিক তার কেটে দিয়েছিল এবং তাতেই শর্ট সার্কিট থেকে লেগেছিল আগুন।
উত্তরবঙ্গের মানুষ থেকে পর্যটক সকলেই দাবি করেন, এই বন বাংলোটিকে আগের অবস্থায় ফেরানো হোক। বন বাংলোটি তৈরি হয় ১৯৬৭ সালে। উত্তরবঙ্গের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৫৭ বছরের ইতিহাস। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরর্সের চ্যাপ্টার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত বলেন, ‘ইতিহাসের সরণিতে এই বাংলো বেঁচে থাকুক। কিন্তু কোনোভাবেই যেন কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে না-যায়।’ মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা জানান, বন বাংলোর বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে রয়েছে।