নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বর্ষবরণের রাতে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে চুরি করতে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু তন্নতন্ন করে খুঁজেও দামি কিছু পায়নি তারা। শেষমেশ হতাশা আর বিরক্তি থেকেই ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায় তারা। গোটা বাড়ি জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দত্তপুকুরের পূর্বাচলে। বাড়ির মালিক গোপালচন্দ্র দাস দিন দু’য়েকের জন্য বেহালায় মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার কাকভোরে সেখানে বসেই বাড়িতে আগুন লাগার খবর পান তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং স্থানীয় মানুষের সহায়তায় আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দুষ্কৃতীরা ভেবেছিল, ওই বাড়িতে হানা দিয়ে দামি জিনিস হাতাতে পারবে। মিলবে সোনার অলংকার, নগদ টাকা। পয়লা জানুয়ারি রাতে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে গ্রিল কেটে ঢুকে পড়েছিল তারা। গোটা বাড়ি তছনছ করার পরেও তেমন কিছু না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছিল দুষ্কৃতীরা। সারা রাত ‘খেটে’ও চুরি করার মতো কিছু জিনিস না পাওয়ায় চলে যাওয়ার আগে রাগের বশে আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়িতে। আশপাশের বাসিন্দারাই আগুন দেখে ফোন করেন গোপালবাবুকে। খবর দেওয়া হয় দত্তপুকুর থানা ও দমকলকে। তবে তারা আসার আগেই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশি নজরদারির অভাবেই বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে দুষ্কৃতীদের। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। দত্তপুকুর থানার সেদিকে কোনও নজর নেই। তার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার কাকভোরে ফোন পান গৃহকর্তা গোপালবাবু। তখন তিনি বেহালায় মেয়ের বাড়িতে। তাঁকে বাড়িতে আগুন লাগার খবর দেন প্রতিবেশীরাই। তড়িঘড়ি তিনি এসে দেখেন, সব শেষ। বাড়ির দরজার গ্রিল কাটা। তালাটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিছু না পেয়ে দুষ্কৃতীরা যে ঘরে আগুন লাগিয়েছে, সেব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। তিনি বলেন, বাড়ি এসে দেখি, সবক’টি দরজার তালা ভাঙা। বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় এখন থাকবই বা কোথায়? গোপালবাবুর মেয়ে জয়িতা দত্ত বলেন, এসি, ফ্যান, টিভি, আসবাব সবই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে আর কিছু দামি সামগ্রী বা নগদ টাকা ছিল না। তাই চুরি করার মতো কিছু না পেয়ে হতাশা থেকেই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গিয়েছে তারা। কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অন্তরা যাদব বলেন, গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। আশা করি, আসল ঘটনা সামনে আসবে। রাতে এলাকায় বাইকাচালকদের দাপাদাপি বেড়েছে। পুলিশের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। দত্তপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। নিজস্ব চিত্র