


পরামর্শে বিশিষ্ট সুপ্রজননবিদ ডাঃ বাণী মিত্র।
আইভিএফ-এর খরচ দম্পতির শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তান চান। তবে সকলের বন্ধ্যত্বের কারণ একই হয় না। সেই সমস্যাগুলির সমাধানের উপরেই নির্ভর করে চিকিত্সার খরচ। কতকগুলি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বোঝা যাবে।
পরিস্থিতি-১
যে ক্ষেত্রে স্বামীর স্পার্ম কাউন্ট সঠিক আছে, স্পার্মের মোটিলিটি বা স্পার্ম যথেষ্ট সক্রিয় এবং স্ত্রীর ওভামের কাউন্টও ঠিকঠাক, স্ত্রীর বয়স ৩০-এর কাছাকাছি অথচ সন্তান আসছে না, একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, লাভ হয়নি, এমন ক্ষেত্রে আইভিএফ করার খরচ ২ লক্ষ টাকা মধ্যে হতে পারে। সাধারণত এক্ষেত্রে দুইবারের আইভিএফ সাইকেলের জন্য এমব্রায়ো তৈরি করে রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ প্রথমবারেই আইভিএফ সফল নাও হতে পারে। তাই প্রথমবারেই এমব্রায়ো তৈরি করে রাখলে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারে সামগ্রিকভাবে খরচ কমে যায়।
পরিস্থিতি-২
ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (আইসিএসআই) পদ্ধতি অবলম্বন করতে হলে একটু বেশি খরচ হয়।
পরিস্থিতি-৩
দম্পতির জিনগত কোনও সমস্যা থাকলে বা অন্য কোনও জটিলতা থাকলে ইমপ্ল্যান্টের আগে প্রিইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক টেস্ট (পিজিটি) করে জেনেটিক কম্পোজিশন জানা গুরুত্বপূর্ণ। পিজিটি দুই ধরনের হয় পিজিটি-এ এবং পিজিটি-এম। এই পরীক্ষা করাতে হলে খরচ বাড়ে।
পরিস্থিতি-৪
অনেক সময় দেখা যায়, কিছু দম্পতির প্রেগন্যান্সি লস হয়েছে একাধিকবার। নানা চিকিত্সা করেও ফল মিলছে না। এমন ক্ষেত্রে ইউপ্লয়েড এমব্রায়ো ট্রান্সফার হচ্ছে কি না অর্থাত্ ভ্রূণের ২২ জোড়া ক্রোমোজোম ও তার সঙ্গে এক্স এবং ওয়াই ক্রোমোজোম (লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম) আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই ভ্রূণের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কমও থাকতে পারে। এমন নন ইনভেসিভ ক্রোমোজোমাল স্ক্রিনিং– এর আলাদা খরচ হতে পারে।
মনে রাখবেন
আইভিএফ-এ সাফল্য একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। দম্পতির বয়স, স্পার্ম ও ওভামের গুণগত মান, ইউটেরাসের স্বাস্থ্য ইত্যাদি। তাই বন্ধ্যত্বের চিকিত্সা এখন ব্যক্তি ভেদে বদলে যেতে পারে। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি অনুসারে হয় চিকিত্সা। মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্ম যেন নিশ্চিত করা যায়।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক