Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রচার অভিমুখ কী! সংশয়ে বঙ্গ বিজেপি

নরেন্দ্র মোদি সরকারের উন্নয়ন। নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের অপশাসন। আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলায় প্রচারের মূল ইস্যু নিয়ে ধন্দে বঙ্গ বিজেপি।

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রচার অভিমুখ কী! সংশয়ে বঙ্গ বিজেপি
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদি সরকারের উন্নয়ন। নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের অপশাসন। আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলায় প্রচারের মূল ইস্যু নিয়ে ধন্দে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যের মসনদ দখলের লড়াইয়ে বিজেপি ২০২৬ নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে। তাই এখন থেকেই কোমড় বেঁধেছে গেরুয়া শিবির। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সাতদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার মোদি সরকারের ১১ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি রাজ্যজুড়ে প্রচারে নামছে গেরুয়া পার্টি। ৯ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তারপর সব জেলায় এই কর্মসূচি চালু হবে। বড় বড় হোডিং, ব্যানার এবং অডিও ভিজুয়াল প্রেজেনটেশন করা হবে 

Advertisement

বলে সিদ্বান্ত হয়েছে। ‌কিন্তু দলের মধ্যে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি অংশের 
বক্তব্য, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকাকালীন ২০১৬ ও ২০২১ পরপর দু’টি বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হতে হয়েছে, পূরণ হয়নি ‘আব কী বার ২০০ পার’এর স্বপ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের নিজস্ব গুচ্ছ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে কোটি কোটি রাজ্যবাসীকে প্রতিমাসে নগদ হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্বভাবতই দু’হাত ভরে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছে জোড়াফুল শিবির। 
উল্টোদিকে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রশ্ন, মোদি জমানায় রাজ্যে কোনও বৃহৎ উৎপাদন শিল্প এসেছে? কেন্দ্রীয় সরকারি ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে বড় সংখ্যক চাকরির সুযোগ কি তৈরি হয়েছে? পাশাপাশি গত ১১ বছরে গ্যাস, পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। উল্টে একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার হেড-অফিস বাংলা তথা কলকাতা থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অনেক অপ্রীতিকর প্রশ্নের জবাব বিজেপি নেতাদের কাছে নেই। ফলে উক্ত কর্মসূচি জেলায় জেলায় মানুষের মনে 
কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন খোদ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য 
থেকে মমতা সরকারের ব্যর্থতা বেশি প্রচার করা উচিত। তাতে  ভোট বাক্সে বাড়তি 
ডিভিডেন্ড আসবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ বাংলার সার্বিক আর্থ-সামাজিক অচলাবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে মা-মাটি-মানুষ সরকারের অপশাসনের কুফল তুলে ধরতে হবে। আম-জনতা রোজকার জীবন দিয়ে তা কেমন ‘উপভোগ’ করছেন, তার বাস্তব চিত্র সামনে আনতে হবে। তাহলেই কাঙ্খিত সাফল্য মিলবে বলে মনে করছে পদ্ম বাহিনীর ওই অংশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ