


শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: কথায় আছে সত্য চাপা থাকে না। অবশেষে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়েই পড়ল! ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে সবক’টি বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং হয়েছে বলে দাবি করেছিল নির্বাচন কমিশন। শুধু তাইই নয়, প্রতিটি দফার ভোট শেষে তৎকালীন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দাবি করেছিলেন, রাজ্যের কোনও বুথে এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়নি ওয়েব কাস্টিংয়ের জন্য নির্ধারিত ক্যামেরা। অথচ একটি মামলার সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের(সিইও) তরফে নিযুক্ত আইনজীবী সৌমেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি দাবি করেছেন, একাধিক বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের জন্য রাখা ক্যামেরাগুলি ভেসলিন, ফেভি কুইক এবং টুথপেস্টের মতো জেল মাখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
কোন মামলার সূত্রে এই তথ্য সামনে এল? গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৭ দফায় ভোট করেছিল নির্বাচন কমিশন। সবক’টি দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সবক’টি দফার ভোট শেষে তৎকালীন সিইও দাবি করেছিলেন, বুথে কোথাও ক্যামেরা বন্ধ হয়নি। কিন্তু ঘটনা হল, ২০১৯ এবং ২০১৪ সালে ওয়েবকাস্টিংয়ের জন্য ফো-কম-নেট নামে একটি সংস্থাকে বরাত দিয়েছিল সিইও অফিস। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের দুটি প্রান্তে একাধিক বুথে ক্যামেরা বন্ধ থাকার অভিযোগ করে এখন ওই সংস্থাকেই শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে সিইও অফিস। শুধু তাইই নয়, ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি এবং আরনেস্ট মানি ডিপোজিট আটকে দিয়েছে সিইও অফিস। যার জেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই সংস্থা। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানিতে সংস্থার আইনজীবী অনির্বাণ রায় দাবি করেন, এই ধরনের শো-কজ করার অধিকার নেই সিইও দপ্তরের।
এরপরই পাল্টা সওয়াল করতে গিয়ে সিইও দপ্তরের আইনজীবী সৌমেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, চতুর্থ দফার ভোট পর্যন্ত ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েবকাস্টিং করা যায়নি। অন্তত দু’টি থানা এলাকায় বেলা ১২ টার পর থেকে ক্যামেরার কোনও ফুটেজ মেলেনি। এছাড়াও ২০১ নম্বর পোলিং স্টেশনে দুপুর ১ টা থেকে ৪ টে পর্যন্ত ক্যামেরা কাজই করেনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পারি ডিসি পাওয়ার প্ল্যাগে গোলযোগ থাকায় ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়।’ এছাড়াও কিছু ক্যামেরাতে ভেসলিন, ফেভিকুইক, টুথপেস্ট লাগিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছিল। আমরা ওই সংস্থাকে খবর দিলেও তারা কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। একারণেই আমরা ওই সংস্থাকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছি।’ সিইও দপ্তরের আইনজীবীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশনের শো-কজ নোটিসে কোনও হস্তক্ষেপ করেননি বিচারপতি সিনহা। তবে ঘটনা হল, এই মামলার সূত্রেই গত লোকসভা ভোটে ক্যামেরা বন্ধ না হওয়ার সিইও অফিসের দাবি, নস্যাৎ হয়ে গেল বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।