নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: ডাগ আউটে বসে সূর্যকুমার যাদব। পাশেই সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক। সূর্যর ঠিক উলটোদিকে কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনজনেই হাত নেড়ে বলছেন কথা। বোঝাই যাচ্ছিল যে হারের ময়নাতদন্তে দ্রুত নেমে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। শুধু তো ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের ১২ ম্যাচ পর এই আসরে হোঁচট খাওয়া নয়। ঘরের মাঠে কাপযুদ্ধের সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইও কঠিন হয়ে পড়ল এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে। গম্ভীর-সূর্য জুটির শরীরী ভাষায় সেজন্যই স্পষ্ট উদ্বেগ। সুপার এইটে’র বাকি দুটো ম্যাচই এখন জিততে হবে।
ম্যাচের পর ক্যাপ্টেন সূর্য মেনে নিলেন ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা। বললেন, ‘আমরা বোলিং খারাপ করিনি। তবে ব্যাটিং ভালো হয়নি একেবারেই। ১৮০-১৮৫ রান তাড়া করতে হলে এটা ভাবতে হবে যে পাওয়ার প্লে-তে কিন্তু ম্যাচ জেতা যায় না, তবে পরাজয়টা নিশ্চিত হতে পারে। আমরা প্রথম ছয় ওভারে বড্ড বেশি উইকেট হারিয়েছি। তারপর ছোটো ছোটো পার্টনারশিপও গড়ে ওঠেনি।’ বৃহস্পতিবার চিপকে সামনে জিম্বাবোয়ে। ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ শোনা গেল সূর্যর গলায়, ‘আমরা যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট মেলে ধরতে চাই, তাতেই আস্থা রাখছি। কিছুই বদলাচ্ছে না এই পরাজয়ে। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ফিরে আসব শক্তিশালীভাবে।’
দু’বছর আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে জেতাতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শেষ ওভারে সূর্যকুমার যাদবের নেওয়া অবিশ্বাস্য কাচে ফিরতে হয়েছিল ডেভিড মিলারকে। রবিবারের মোতেরায় অবশ্য তাঁর ব্যাটই টানল প্রোটিয়াদের। ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস সম্পর্কে ম্যাচের সেরার মূল্যায়ন, ‘দারুণ উপভোগ করেছি ব্যাটিং। পাওয়ার প্লে’র সময়ে অবশ্য একটু চাপেই পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ব্রেভিসের সঙ্গে জুটিতে স্কোরবোর্ড সচল রাখি।’ মিলার আরও বলেন, ‘আমরা এখানে আগেও খেলেছি। তারই সুবিধা পেলাম। জানতাম, ওরা পাওয়ার প্লে-র ওভারগুলোতে ঝড় তোলার চেষ্টা করবে। তাই শুরুতে উইকেটের জন্য ঝাঁপিয়েছিলাম। দুই বাঁ-হাতি ওপেনার বলেই প্রথম ওভারে আক্রমণে আসে মার্করাম। সেই পরিকল্পনায় আমরা সফল।’ ব্যাটিংয়ের সময় মিলার অবশ্য হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে। তবে আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশিদূর এগয়নি।