নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রার্থী তালিকা হাতে নিয়েই জয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রত্যয়ী সুরে তাঁর বার্তা, ‘লড়ব, জিতবও।’ আরও একটু স্পষ্ট করে তাঁর ঘোষণা, ‘এবারের বিধানসভা নির্বাচনের অভিমুখ একটাই—বয়কট বিজেপি। এই ভোট বাংলার জন্য। বাংলার অধিকার রক্ষার জন্য।’ তাঁর সরাসরি আক্রমণ, ‘বিজেপি-কমিশন থ্রেট করুক, অফিসারদের বদলি করুক... ভোট কিন্তু মানুষ দেবে। আর বাংলার মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।’
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টে। কালীঘাটে নিজের বাসভবনের দলীয় কার্যালয় থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘর থেকেই বরাবর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে এসেছেন মমতা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরুতেই মমতা জানিয়ে দেন, ‘আমাদের দলের এই কার্যালয় থেকেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আজও আমরা সেই ধারা বজায় রাখছি।’ তখন ওই ঘরে তিল ধারণের জায়গা নেই। বাংলা তথা দেশের তামাম সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ঠাসা ভিড়। আর মমতাকে ঘিরে এই উন্মাদনা হওয়াটা স্বাভাবিকই ছিল। কারণ, সারা দেশে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের প্রধান মুখ এখন মমতাই। আর গোটা দেশের নজরে রয়েছে বাংলার বিধানসভা ভোট। ফলে মমতাকে ঘিরে সব সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলসে উঠেছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন মমতা। শুরুতেই বাংলার বরেণ্য মনীষী, সমাজ সংস্কারকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তৃণমূল নেত্রী। যে বাংলাকে অসম্মান করার অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে, বিভাজনের রাজনীতি কায়েমের চেষ্টা চলছে, মাছ-মাংস বন্ধ করে দেওয়ার ফরমান জারি করছেন বিজেপি নেতারা— সেখানেই মমতার প্রতিবাদ। তাই তাঁর ঘোষণা, এই নির্বাচন বাংলাকে বাঁচানোর।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। পাহাড়ের তিনটি আসন (কার্শিয়াং, কালিম্পং ও দার্জিলিং) প্রার্থী দেয়নি জোড়াফুল। ওই তিনটি আসনে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে সমর্থন করেছে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল প্রার্থী দিয়েছিল ২৯১টি আসনে। সেবার জিতেছিল ২১৫টি। আর এবার ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মমতার ঘোষণা, ‘২০২৬ সালে আমরা ২২৬-এর বেশি আসনে জিতব। এটাই আমাদের বিশ্বাস।’
কিন্তু কোন ফর্মুলায় এই জয় আসবে? মমতা নিজে যে কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন, সেখানেই বা কী হবে? মমতার সাফ উত্তর, ‘আমরাই জিতব। সেই বিশ্বাস আমাদের আছে। কারণ, আমরা বিজেপির মতো নই। বছরের ৩৬৫ দিনই তৃণমূল মানুষের পাশে থাকে। যা যা করার দরকার ছিল, আমরা তা করেছি। ১০০টিরও বেশি প্রকল্প রূপায়ণ করেছি। আর বিজেপি নেতারা শুধু নির্বাচনের সময় আসে, টাকা খরচ করে। বিজেপি যত বেশি বাংলাকে টার্গেট করবে, বাংলার মানুষ তত বেশি ওদের যোগ্য জবাব দেবে।’
এর আগের নির্বাচনেও বিজেপির বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই, এনআইএর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তৃণমূলের। কিন্তু এবার দলনেত্রী থেকে সেনাপতি, প্রত্যেকের অভিযোগ, বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এই সূত্রে মমতা বলেছেন, ‘বিজেপির কমিশন এক অদ্ভুত খেলা খেলছে। নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা), সিপি এবং কমিশনার থেকে শুরু করে এসপি—সবাইকে বদলে দেওয়া হয়েছে। কেন আপনারা বিজেপির নির্দেশে পিছনের দরজা দিয়ে এই খেলা খেলছেন? লড়াই করতে হলে সামনে এসে করুন। প্রয়োজন হলে এখানেই এসে প্রচার শুরু করুন। স্টেজ বেঁধে জনসভা করুন।’ বিজেপিকে উদ্দেশ করে মমতার তীর্যক মন্তব্য, ‘এত তাড়া কীসের? আপনারা এত ক্ষুধার্ত কেন? বিজেপি বাংলার জন্য হ্যাংলা হয়ে উঠেছে। চ্যালেঞ্জ করছি, এবার অস্মিতার লড়াই... অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে বাংলাই জিতবে, দিল্লির লাড্ডু জিতবে না।’



