নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুর কিংবা রাতের খাবারের থালা থেকে পদ কমানো ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছে না মধ্যবিত্ত। উত্সব পরবর্তী বাজার ঘুরে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মরশুমি ফসলের দর পুজোর সময় বেড়েছিল অনেকটাই। কিন্তু তা কমার নামগন্ধ নেই। পটোল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শ, লাউ, কুমড়ো, বেগুনের দাম উৎসবের মুখে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। পাল্লা দিয়ে চড়ে রয়েছে ডিম, মাছ আর মুরগির মাংস। ফলে আমিষ হোক বা নিরামিষ, দুপুর বা রাতে খাবারের থালা সাজাতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। আম জনতার সেই সংকটের বার্তা এবার বয়ে আনল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিলও। তারা গত সেপ্টেম্বর মাসে আমিষ ও নিরামিষ খাবারের দামের তুল্যমূল্য আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, কয়েকমাস আগে খাবার জোগাড় করতে সাধারণ মানুষের যে খরচ হতো, তা বেড়ে গিয়েছে উৎসবের মরশুমে।
তারা হিসেব কষে দেখেছে, একজন নিরামিষাশীর এক থালা খাবারের জন্য গত সেপ্টেম্বরে খরচ হয়েছে গড়ে ২৮ টাকা ১০ পয়সা। তার আগের মাসে সেই খরচের অঙ্ক ছিল ২৭ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ গত মে মাসে এক প্লেট নিরামিষ খাবারের দাম ছিল ২৬ টাকা ২০ পয়সা। আমিষ থালির ক্ষেত্রে ক্রিসিলের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বরে এক প্লেট আমিষ খাবারের জন্য খরচ হয় ৫৬ টাকা। আগস্টে তা ছিল ৫৪ টাকা ৬০ পয়সা। মে মাসে আমিষ খরচ নেমেছিল ৫২.৬ টাকায়। নিরামিষ থালির মেনু হিসেবে ধরা হয়েছে রুটি, ভাত, আলু, টম্যাটো-পেঁয়াজের তরকারি, ডাল, দই ও স্যালাড। আমিষ থালির ক্ষেত্রে ডালের বদলে ব্রয়লার চিকেন যোগ করা হয়েছে। কেন বাড়ল রান্না করা খাবারের দাম? ক্রিসিলের দাবি, একবছরের তুল্যমূল্য হিসেব কষলে পেঁয়াজ, টম্যাটো ও আলুর দাম কিছুটা কম। কিন্তু বেড়ে গিয়েছে ভোজ্যতেল এবং এলপিজির দাম। সম্প্রতি ব্রয়লার মুগির মাংসের চড়া দাম প্রভাব ফেলেছে আমিষ পাতে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
লক্ষ্মীপুজোর পর বৃহস্পতিবার গড়িয়াহাট বাজারে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অন্যদিকে, বেগুন এখনও ১০০ টাকা কিলো। আলু-পেঁয়াজ যথাক্রমে ৩০ ও ২০ টাকা কিলো। আর টম্যাটো ৫০ টাকা কিলো। আর যে সবজি পাতে নিয়ে আম বাঙালি একটু নাক সিটকোয়, সেই পটোলের দামও ৬০ টাকা কিলো। বাজার করতে এসে অসিত চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘সবজির দাম কমার কোনও নামগন্ধ দেখছি না। কী আর করা যাবে! রান্নার পদের সংখ্যা কমাতে হবে। একে আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম, তার উপর সবজির দাম এত বেশি। মুরগিও তো আড়াইশো টাকা।’ সবজির দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে সবজি ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা বলছেন, ‘ক্রেতারা এসে দাম কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু আমরাও তো পারছি না। কী আর করব!’