নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইএসএলে এখনও পর্যন্ত সুপার ফ্লপ ইস্ট বেঙ্গল। তার অন্যতম কারণ হল দল গঠনের ব্যর্থতা। তাই আগামী মরশুমে কাপর্ণ্য না করে শক্তিশালী টিম গড়ার জন্য বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামিকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র সদনে গৌতম ঘোষের পরিচালনায় ‘মশাল’ একশো বছর পেরিয়ে ...‘শতবর্ষে ইস্ট বেঙ্গল’ নামে এক বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হল। ১ঘণ্টা ২৭ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাসের বিভিন্ন মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়। এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে মহিলা আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ক্লাবকে ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার তুলে দিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ইমামি। তবে গত তিন বছর লাল-হলুদের দলগঠনের ক্ষেত্রে বারবার অর্থ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাব কর্তারা চেষ্টা করেও মনের মতো দল গড়তে পারেননি। আর তার প্রভাব পড়েছে দলের পারফরম্যান্সে। তাই এবার বাংলার ফুটবলের স্বার্থে ইমামি কর্তাদের ভালো দল গড়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মমতা বলেন, ‘মোহন বাগান ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে। কারণ, ওদের ইনভেস্টর সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কাছে টাকার অভাব নেই। ফলে ওরা দলটা ভালো ভাবে গড়েছে। ইস্ট বেঙ্গল সেই জায়গায় অনেকটাই পিছিয়ে। নীতুদাকে আসতে আসতেই বলছিলাম, আপনারা দলটা ভালো করে করছেন না কেন? খেলাধুলোয় প্রতিযোগিতা যদি না থাকে, তাহলে সফল হওয়া মুশকিল। তাই বলে শুধু টাকা ঢাললে হবে না। বুদ্ধি করে দলটা তৈরি করতে হবে। ডায়মন্ডহারবারকে দেখে শিখুন। কেমন বুদ্ধি খাটিয়ে দল গড়েছে। তাই ইস্ট বেঙ্গল কর্তাদের বলব, আগে থেকে ভাবুন, কাদের নেবেন। এক বছর ধরে পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিন।’
এরপরই আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ইস্ট বেঙ্গল মহিলা দলকে প্রশংসায় ভরালেন মমতা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে আই লিগ ট্রফি তুলে দেন দলের কোচ ও ফুটবলাররা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের একটি ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইস্ট বেঙ্গলের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলিকে স্টেডিয়াম করার জন্য জমি প্রদানের প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডুমুরজলায় যে জমি সিএবি’কে দেওয়া হয়েছিল, সেটা নিয়ে নানারকম মামলা রয়েছে। তাই ক্রিকেট অ্যাকাডেমি করে নিন। বরং রাজারহাটে ১৫ একরের একটি জমি পড়ে রয়েছে। ফিফা বলেছিল, সেখানে ফুটবল স্টেডিয়াম করবে। তবে তারপর আট বছর কেটে গিয়েছে। তারা কোনও উদ্যোগে দেখায়নি। চাইলে সিএবি চাইলে সেখানে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ুক। আইন মেনে সেই জমি আমরা হস্তান্তর করে দেব।’
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, বিধায়ক মদন মিত্র, ইস্ট বেঙ্গল সভাপতি মুরারী লোহিয়া, সচিব রূপক সাহা, শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, কোচ অস্কার ব্রুজোঁ, মোহন বাগান সচিব দেবাশিস দত্ত, প্রাক্তন সচিব সৃঞ্জয় বসু, সাদা-কালো কর্তা কামারুদ্দিন, আইএফএ সচিব অর্নিবাণ দত্ত, ইমামি কর্ণধার আদিত্য আগরওয়াল, পরিচালক গৌতম ঘোষ, সৃজিত মুখোপাধ্যায় সহ একঝাঁক প্রাক্তন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুপস্থিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম।