নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘তারকা নেত্রী’কে নিয়ে আতঙ্কের ছায়া এখনও তাড়া করছে পদ্মপার্টিকে। সেই বিড়ম্বনায় আর পড়তে চান না বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার নেতা-কর্মীরা। তাই ২০২৬ সালের ভোটের প্রাক্কালে স্থানীয় প্রার্থী চেয়েই সুর চড়াচ্ছেন কার্যকর্তারা। এই দাবির কথা তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছে দিতে চাইছেন। বেশ চড়া গলাতেই সে কথা ‘দিল্লির দূত’কে বলছেন নীচুতলার নেতা-কর্মীরা। গত কয়েকদিন ধরে হুগলি লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন দিল্লি থেকে আসা হরিয়ানার প্রাক্তন সাংসদ সঞ্জয় ভাটিয়া। প্রায় সবক’টি বিধানসভা এলাকার নেতা-কর্মীরা তাঁর কাছে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি তোলেন। নীচুতলার স্পষ্ট আওয়াজ, বিধানসভা এলাকার না হলেও অন্তত জেলার মানুষকে প্রার্থী করতে হবে।
একথা শুনে হাসছেন বিজেপির জেলাস্তরের এক দাপুটে নেতা। তিনি বলেন, আসলে আমাদের প্রাক্তন সাংসদ তথা হুগলির বহিরাগত তারকা নেত্রী দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে দিয়েছেন। সেই আতঙ্ক থেকে তাঁরা এখনও বেরিয়ে আসতে পারেননি। যদিও রাজনৈতিক মহল আরও একটি কথা বলছে। ওই অংশের দাবি, মাঠে-ময়দানে বিজেপির কাজ করার লোক কম। জেলার অনেকেই কলকাতার নেতাদের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ভোটের ময়দানে তাঁদের প্রার্থী করার রীতি রাজ্য নেতৃত্ব বারবার দেখিয়েছে। ফলে যাঁরা মাঠে-ঘাটে কাজ করেন, সেই সমস্ত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। এ নিয়ে দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধি জেলায় এসে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে কী কথাবার্তা হয়েছে, তা সংবাদমাধ্যমকে জানাতে হবে কেন? বিজেপি একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল। সকলের নানা মত, পথ থাকতেই পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের কথাই শেষ কথা।
দল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে হুগলি এসে পৌঁছেছেন সঞ্জয় ভাটিয়া। হুগলি লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রতেই তিনি একে একে বৈঠক করছেন। বৃহস্পতিবার বৈঠকটি হয়েছে চন্দননগর বিধানসভা এলাকায়। বাকি আছে কেবল ধনেখালি ও চুঁচুড়া। দলের মণ্ডল স্তরের নেতাদের সেই বৈঠকে মূল আলোচ্য নির্বাচন। ওই ভোটে কীভাবে জয় হাসিল করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হচ্ছে। এখানেই জেলা ও মণ্ডলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আসন জিততে গেলে স্থানীয়দের কাউকে প্রার্থী করতে হবে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বলাগড় থেকে চন্দননগর সর্বত্রই কর্মীদের এক সুর দেখে ভ্রু কুঁচকেছে দিল্লির নেতার। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছিলেন বিজেপির তারকা প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। জেতার পর তাঁকে নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গত বিধানসভা ভোটে তাঁকে চুঁচুড়ায় প্রার্থী করায় দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। শেষপর্যন্ত লোকসভার পর বিধানসভা ভোটেও তিনি হারেন। তাতে কার্যত স্বস্তি পেয়েছিলেন নীচুতলার কর্মীরা। এবার তাই আগেভাগেই লকেটকে ভোট-রাজনীতির বাইরে রাখতে চাইছে বিজেপির কর্মীমহল।