গুয়াহাটি: বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হল উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে। এর জেরে সড়ক যোগাযোগ, রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত। কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা অসমে। রবিবার ব্রহ্মপুত্র, বরাক সহ রাজ্যের ১০টি নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের ১৫টি জেলার ৭৮ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত। অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৫টির বেশি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। রাজ্যের জন্য অরেঞ্জ বুলেটিন জারি করেছে সেন্টার ওয়াটার কমিশন।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির জেরে বরাইগ্রাম-দুলবছেড়া সেকশনের অনেক রেললাইনই জলের নীচে চলে গিয়েছে। এরজন্য দুলবছেড়া-শিলচর, বদরপুর-দুলবছেড়া-বদরপুর যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে হাত দিয়েছে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিস, দমকল এবং জরুরি বিভাগের কর্মীরা। অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমানায় বমজির নদীর জলস্ফীতির জেরে ১৪জন আটকে পড়েছিলেন। রবিবার তাঁদের উদ্ধার করে বায়ুসেনা। বিপর্যস্ত ত্রিপুরাও। রবিবার মাত্র তিন ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় সরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ১ হাজার ৩০০ পরিবার। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, ‘গত দু’দিন ধরে প্রবল বৃষ্টির জেরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।’ তিনি আরও বলেন, রাজধানী আগরতলার অনেক এলাকাই জলমগ্ন। জল সরাতে পাম্প চালু করা হয়েছে। ত্রিপুরায় রবিবার থেকে পাঁচদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।
বৃষ্টিতে মেঘালয় ও অসমের মধ্যে যোগাযোগের মূল রাস্তা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ভেসে গিয়েছে। ফলে তুরা থেকে গুয়াহাটরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মণিপুরে বৃষ্টিতে ৮০০টির বেশি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা ইম্ফলের বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৩ হাজার ৮০২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মিজোরামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হল সেরচিপ। রবিবার ভূমিধসের জেরে এই জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।