নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, মানকর: হাওড়ার বেলগাছিয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা এবার গ্রামাঞ্চলেও ডাম্পিং গ্রাউন্ড কালচারের ইতি টানতে চাইছে পঞ্চায়েত দপ্তর। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও সচিব। বৃহস্পতিবার তাঁরা হাজির হয়েছিলেন কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন জায়গায়। সেখানে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করে তা দিয়ে ব্লু রোড বানাব। এতে অপচনশীল বস্তুগুলি ডাম্পিং করে রাখতে হবে না। অন্যদিকে, বর্জ্য পদার্থ দিয়ে উন্নত রাস্তা তৈরি হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আসবে।
তিনি গ্রাম বাংলার সারকুড়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। মন্ত্রীর দাবি, আগে বাড়ির পাশে একটি করে সারকুড় থাকত। বাড়িতে সেই সময়ে বেশিরভাগ পচনশীল বর্জ্য হতো। তাই সারকুড়ে সারে পরিণত করা হতো। এখন সেই সংস্কৃতি নেই। এবার পঞ্চায়েত দপ্তর গ্রামে গ্রামে পচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করে তার থেকে সার তৈরি করবে। সেটা চাষিদের দেওয়া হবে।
হাওড়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ঘটনায় রাজ্য জুড়েই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। যেভাবে বাড়ি ধসে গিয়েছে। জলপ্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার আঁচ পড়েছে আসানসোলেও। শহরের বিভিন্ন ড্রাম্পিং গ্রাউন্ডের অবস্থা যাচাই করার কাজ চলছে। কিন্তু, বর্জ্য জমিয়ে রাখার বিষয়টি এখন আর শহরের মধ্যে আবদ্ধ নেই। শহর লাগোয়া গ্রামেও গজিয়ে উঠছে বহুতল। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জঞ্জালের পাহাড়। এবার রাজ্যজুড়ে সেই জঞ্জাল ব্যবস্থাপনাকেই ঢেলে সাজাতে জোর দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। দপ্তরের দাবি, নির্মল বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে তারা বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে ওপেন ডেফিকেশন ফ্রি বা মুক্ত পরিবেশে শৌচকর্ম ঠেকাতে পেরেছে। পরের পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে গড়ে উঠেছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট। যদিও বহু ক্ষেত্রেই তা সঠিক ভাবে ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই প্রক্রিয়াকে গ্রাউন্ড স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে পঞ্চায়েত দপ্তর। সেই কারণেই বিভিন্ন জেলায় ঘুরছেন মন্ত্রী সহ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর পঞ্চায়েত এখন শহরের রূপ নিয়েছে। এদিন সেখানের চায়ের দোকান থেকে স্কুল সর্বত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের সচেতনা গড়ার কাজ করলেন। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি বাড়ি থেকে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যকে পৃথক ভাবে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করবে পঞ্চায়েত। অপচনশীল সামগ্রী থেকে পথশ্রী প্রকল্পে পঞ্চায়েতে ব্লু রোড গড়ে তোলা হবে। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব উলগানাথন, নির্মল বাংলার রাজ্য প্রজেক্ট ডিরেক্টর সন্তোষ জি, জেলাশাসক পোন্নমবলম এস ও দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।
এদিনের অনুষ্ঠানে খুশি চাষিরাও। যেমন, উত্তম হোড় নামে এক চাষি বলেন, যে জমিতে প্লাস্টিক জমে থাকছে সেখানে আর চাষ করা যাচ্ছে না। পঞ্চায়েত যদি জমিতে থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রাস্তা করে তাহলে সেখানে ফের চাষ করা যাবে। জৈব সার বিনামূল্যে পেলে আরও ভালো হয়। ত্রিলোকচন্দ্রপুরের মৎস্যচাষি বনমালি পাল বলেন, গ্রামের প্লাস্টিক সংগ্রহের বিষয়টি জোর দিয়ে করা হয় না। ফলে পুকুরগুলি প্লাস্টিকে ভর্তি হচ্ছে। মাছ মারা যাচ্ছে। পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।