Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

যুদ্ধ একটা শিল্প, কিন্তু পরিণতি? ভয়াবহ

জেনারেল সান জু। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, চীনের এই সেনাকর্তা এবং একইসঙ্গে সমর বিশেষজ্ঞের জীবনকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৪ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৪৯৬ পর্যন্ত।

যুদ্ধ একটা শিল্প, কিন্তু পরিণতি? ভয়াবহ
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত: জেনারেল সান জু। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, চীনের এই সেনাকর্তা এবং একইসঙ্গে সমর বিশেষজ্ঞের জীবনকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৪ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৪৯৬ পর্যন্ত। বিশ্বের ইতিহাসে তিনি যত না বিখ্যাত, তার থেকে অনেক বেশি চর্চিত সান জু’র লেখা একটি বই—‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’। যুদ্ধ কীসে হয়? কীভাবে সেই যুদ্ধ জেতা যায়? কোন কোন ফ্যাক্টরের দিকে প্রথম থেকে নজর দিতে হবে? কেমন হবে স্ট্র্যাটেজি? এই সব প্রশ্নের উত্তর আছে ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’-এ। কারা তাঁর এই বই অন্ধের মতো অনুসরণ করে সাফল্য পেয়েছিলেন? নেপোলিয়ন, মাও সে তুঙ, ফিদেল কাস্ত্রো, জোসেফ স্তালিন। এই নামাবলিতে একটা বিষয় পরিষ্কার—সান জু নিজে যিশুখ্রিস্টের জন্মের বহু আগে বিলীন হয়ে গিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁর লেখা বইটা হাজার হাজার বছরেও প্রাসঙ্গিক। ছিল, আছে এবং থাকবে। কোনও ফিকশন নয়, গদ্যের বাহার নেই, ভূমিকা বা উপসংহার খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে। শুধুই কতকগুলো পয়েন্ট। এক, দুই, তিন করে লেখা। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হানার পর তাঁর লেখা এই বইটার কথা বেশি করে মনে পড়ছে। প্রশ্ন একটাই— কী হবে পরিণতি? শুরুটা করেছিল ইজরায়েল। কিন্তু এখন আর সেটা পশ্চিম এশিয়ার ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কারণ, আসরে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সকালে এক বিবৃতি দিচ্ছেন, তো বিকেলে অন্য বার্তা। শান্তিস্থাপনের জন্য দু’সপ্তাহ সময় দিয়ে দু’দিনের মাথাতেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বি-২ স্টিলথ ফিফথ জেনারেশন বম্বার এয়ারক্র্যাফ্ট। ইরানও দুর্বল নয়। একে তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার। আর সবটাই নিজেদের তৈরি। তার উপর পশ্চিম এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই তাদের সার-জলে বেড়ে ওঠা হামাস, হিজবুল্লা, হুথির মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। তেহরানের চোখের ইশারায় তারা নেমে পড়বে প্রক্সি ওয়ারে। মূল লক্ষ্য? ইজরায়েল। আড়াআড়ি দুটো অক্ষে এই মুহূর্তে ভাগ হয়ে গিয়েছে কূটনৈতিক বিশ্ব। একদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকা। অন্যদিকে ইরান, রাশিয়া, চীন। আর প্রক্সি ওয়ার চালানোর জন্য প্যালেস্তাইন, লেবানন, ইরাক, ইয়েমেনের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীরা। কার দিকে পাল্লা ভারী? এই বিশ্লেষণের শিকড়ই রয়েছে ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’-এ। পাঁচটি ফ্যাক্টরের কথা লিখেছিলেন সান জু। বলেছিলেন, এই পাঁচটি ফ্যাক্টর যে পক্ষ কাঁটায় কাঁটায় মেলাতে পারবে, জয় তার দখলে। আজকের যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে সেই ফ্যাক্টরগুলোকে দাঁড়িপাল্লায় ফেলে দেখা যাক।

Advertisement

১) দ্য মর্টাল ’ল। শাসকের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হওয়া। বিশ্বাস রাখা। যে পদক্ষেপই শাসক নিক না কেন, তা সঠিকই হবে। অন্ধের মতো অনুসরণ করা। দরকারে প্রাণ দিতেও পিছপা না হওয়া। ইজরায়েল, আমেরিকা বা ইরান, কোন দেশের নাগরিক তথা সেনা এই ফর্মুলাকে চোখ বুজে সমর্থন করছেন? আপাতদৃষ্টিতে কেউ না। আমেরিকা যুদ্ধে যাক, সেটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের নাগরিকরাই চাননি। এমনকী মার্কিন কংগ্রেস এ নিয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়ে রেখেছিল। তাও ট্রাম্প ইরানে হামলা করেছেন। ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলেছেন তিনটি পরমাণু ইনস্টলেশনে। দ্বিতীয়ত ইজরায়েল। গাজায় লাগাতার হামলার ফলে মানবিকতার আদালতে এমনিতেই দাঁড়িয়ে আছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হাজারে হাজারে সাধারণ মানুষ, মহিলা, শিশুর মৃত্যু। ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রে গাজায় গুঁড়িয়ে যাওয়া হাসপাতাল, স্তব্ধ হয়ে যাওয়া চিকিৎসা পরিষেবা... এর জবাব নেতানিয়াহুর কাছে ইজরায়েলের মানুষও চাইছে। তার উপর লাগাতার আছড়ে পড়ছে ইরানের মিসাইল। বাঙ্কারে ঢুকে কোনওরকমে প্রাণরক্ষা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ওই অন্ধকার আশ্রয় থেকে ইজরায়েলিরা বেরিয়ে দেখছেন, তছনছ হয়ে গিয়েছে তাঁদের মাথার ছাদ। নেই অফিস, বাড়ি, পার্ক, স্কুল, রাস্তা...। কে গড়ে দেবে আবার এই দেশ? এই পরিকাঠামো? কবে স্বাভাবিক হবে তাঁদের জীবন? সরকারের কাছে কি সেই টাকা আছে? আমেরিকা দেবে? কত ডলার ‘ভিক্ষা’ যথেষ্ট হবে ওই সাধারণ মানুষগুলোর পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য? তৃতীয়ত, ইরান। হতে পারে কট্টরপন্থী দেশ। হতে পারে রক্ষণশীল। হতে পারে এদেশের মহিলারা হিজাব পরে না বেরলে ১০ বছর পর্যন্ত জেলে যেতে পারেন। কিন্তু বাইরের জগতের কাছে দেশকে ধুলোয় মিশে যেতে দেখতে পারেন না ইরানীয় নাগরিকরা। তাই তাঁরা পথে। দেশে, বিদেশেও। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। ইন্টারনেট বন্ধ। রেডিওতে খবর পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না। তাও বাইরের কোনও জগৎ থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এখনও তাঁরা চাইছেন না। তাই প্রথম ফ্যাক্টরে ইরানই খানিকটা এগিয়ে।
২) হেভেন। স্বর্গ। সান জু’র দ্বিতীয় শর্ত। যুদ্ধের আঙিনায় এর মানে, রাত হোক বা দিন, শীত বা গ্রীষ্ম... লক্ষ্য থাকবেই একটাই—এগিয়ে যাওয়া। ইজরায়েল থামছে না। একের পর এক টার্গেটে আঘাত হেনে চলেছে তারা। প্রথমে গাজা, তারপর ইরান। গাজা ভূখণ্ড দখলই কি তাদের প্রধান লক্ষ্য? প্রাথমিক হতে পারে, প্রধান নয়। গাজা দখল হলে হামাস-মুক্ত পশ্চিম এশিয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ইজরায়েল। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা প্যালেস্তাইন বিবাদের গোড়ায় আঘাত করা যাবে। কিন্তু প্রধান লক্ষ্য অবশ্যই ইজরায়েল। শিয়া শাসক খামেনেই আটের দশকে ইরানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ইজরায়েলের সঙ্গে টানাপোড়েনের সূত্রপাত। ইজরায়েল জানে, প্রযুক্তি, অস্ত্র, গুপ্তচরবৃত্তির জেরে প্রবল শক্তিধর দেশ তারা হতে পারে। কিন্তু ইরানের দাপট বজায় থাকলে একচ্ছত্র হতে পারবে না। পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র ইজরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইরান যদি তালিকায় ঢুকে যায়, ইজরায়েলের আধিপত্যের যাবতীয় প্ল্যান চৌপাট হয়ে যাবে। তাহলে কীভাবে আটকানো যায় ইরানকে? সরাসরি হামলা করে। এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। মার্কিন হামলার পর তারা ফের টার্গেট করেছে ইজরায়েলকে। মুখে বলেছে, ‘প্রত্যেক মার্কিন নাগরিক আমাদের নিশানায়।’ খামেনেই নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘শত্রুদের শাস্তি পেতেই হবে। এখনই।’ কিন্তু সোমবার সকালেও আমেরিকার কোনও ঘাঁটিতে হামলা তারা করেনি। সান জু বলেছিলেন, যে অতি সক্রিয়তা দেখায়, তাকে বিরক্ত করো। কিন্তু শান্ত থাকো। সময় নাও। তারপর সঠিক সময়ে হামলা করো। ইরান কিন্তু সেটাই করছে। আমেরিকার প্ররোচনায় এখনও পা দেয়নি। উল্টে জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু গবেষণা তারা চালিয়ে যাবে। আর পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের তারা ধার ধারে না। অর্থাৎ, নিজেদের অবস্থানে তারা অনড়। ইরানের কাছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম এবং প্রযুক্তি আছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে তাদের ‘কয়েক দিন’ মাত্র সময় লাগবে। তাই তারা এখনও শান্ত। আর উদ্বিগ্ন, অতিসক্রিয় ইজরায়েল-আমেরিকা। সেই কারণেই ট্রাম্প আরও অস্থির হয়ে পড়েছেন। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এখনও সবটা শেষ হয়ে যায়নি। তাহলে শেষ কোথায়?
৩) সান জু’র তৃতীয় শর্ত ‘আর্থ’। পৃথিবী। অর্থাৎ, আক্রমণের দিশা, শত্রুর ওজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জীবন-মৃত্যুর সম্ভাবনা, কতটা খোলা জায়গায় আঘাত হানা যাবে, আর কতটা সংকীর্ণ পথ অতিক্রমের উদ্বেগ রয়েছে... এই সবই আগে যাচাই করে নেওয়া। মোসাদ এবং ব্যাকড্রপে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সৌজন্যে সেই কাজটা ইজরায়েল সেরে ফেলেছে। তাই বেছে বেছে আক্রমণ করতে পেরেছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের। জানতে পেরেছে কোথায় আছে তেহরানের অস্ত্রভাণ্ডার। সেইমতো নেতানিয়াহু আবেদন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে। বাঙ্কার বাস্টার বোমা মারার জন্য। একমাত্র এই বোমাই মাটি ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যাবে, আর তারপর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটাবে। ইরান কি সেটা আন্দাজ করেনি? ব্যবস্থা কি তারা নেয়নি? হামলার ২৪ ঘণ্টা পরও কেউ বুক ঠুকে বলতে পারছে না যে, তিনটি পরমাণু কেন্দ্রই গুঁড়িয়ে গিয়েছে। উল্টে ইরান দাবি করছে, কোথাও কোনও তেজষ্ক্রিয়তা ছড়ায়নি। একটা সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরান নাকি তাদের পারমাণবিক সরঞ্জাম মাটির ৫০০ মিটার থেকে ১ কিমি নীচে রেখেছে। যাতে রেডারে ধরা না পড়ে। তবে একেবারে ক্ষতি যে হয়নি, তা নয়। স্যাটেলাইট ছবিই তার প্রমাণ। তাও একটা বিষয় স্পষ্ট, ইরান তার শত্রুদের জমি জরিপ করেই রেখেছে। কিন্তু ইজরায়েল-আমেরিকা কোনওভাবে ইরানকে হেলাফেলা করছে না তো?
৪) কমান্ডার। অর্থাৎ, যুদ্ধের মূল ব্যাটন যাঁর হাতে। সে কতটা স্থির? কতটা তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি? কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি স্ট্র্যাটেজি বদল করতে পারেন? এই সবই কমান্ডারের গুণ। আর এটাই সান জু’র চতুর্থ শর্ত। ইরানের সুপ্রিম কমান্ডার খামেনেই কারও সঙ্গে কথা বলেন না। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়ে থাকেন। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অতিরিক্ত অ্যাগ্রেসিভ। প্রথমেই আঘাত হানাটা তাঁর স্বভাব। সেটা অবশ্য তিনি পারেন মোসাদ নামক এক আনপ্যারালাল গুপ্তচর সংস্থা এবং প্রযুক্তির জন্য। আর আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কী করবেন, কেউ জানে না। খুব একটা সিরিয়াসলি তাঁকে নেওয়ার কথা নয়। তাও গোটা বিশ্ব নেয়। কারণ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার তাঁর হাতে। একটা বোতামের চাপে অর্ধেক পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে পারেন তিনি। কিন্তু একটা বিষয় ট্রাম্প নিজেও ভুলে যাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে কিন্তু রাশিয়া এবং চীন রয়েছে। শিয়া শাসনতন্ত্রকে পারমাণবিক ক্ষেত্রে এই দু’টি দেশ লাগাতার সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে শুধু ইজরায়েলের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলে চলবে না। তাহলে আমেরিকাও এই গোটা অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শনের ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। তাই ইরানেরও উঠে আসা দরকার। স্থলপথে বা জলপথে ইরানকে টেক্কা দেওয়া কঠিন। কারণ, একদিকে তার আড়াই হাজার কিমি দীর্ঘ উপকূল। অন্যদিকে ইরাক ও তুরস্কের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা জারগোজ পর্বতশ্রেণি। এই রেঞ্জ যেমন দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে পাঁচিলের মতো দাঁড়িয়ে আছে, তেমনই এই পার্বত্য অঞ্চল প্রচুর খনিজের ভাণ্ডারও। উল্টোদিকে ক্যাস্পিয়ান সাগরের গায়েও রয়েছে আল বোর্জ মাউন্টেন রেঞ্জ। অর্থাৎ, আর একটা প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। তাই ইরানকে মারতে গেলে আকাশপথ ছাড়া গতি নেই। সেটাই ইজরায়েল ও আমেরিকা করতে চাইছে। কিন্তু ইরানের উত্তর দিক থেকে আসা রাশিয়া ও চীনের ‘সমর্থন’ আটকাতে পারছে না। এই যুদ্ধে আগামী দিনে তাই আরও দু’জন কমান্ডারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভ্লাদিমির পুতিন এবং জি জিনপিং।
৫) সান জু’র শেষ শর্ত—মেথড অ্যান্ড ডিসিপ্লিন। কীভাবে সেনার মধ্যে ধাপে ধাপে দায়িত্ব বণ্টন হবে, আর কীভাবে তারা সেই দায়িত্ব পালন করবে, সেটাই যুদ্ধের মেথড। আর ডিসিপ্লিন হল, কোনওভাবে সেনা যেন স্ট্র্যাটেজি থেকে সরে না আসে। এবং অবশ্যই যুদ্ধের রসদের সাপ্লাই যেন প্রত্যেক স্তরে পর্যাপ্ত হয়। আর হ্যাঁ, আর একটা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন সান জু— যুদ্ধের খরচ। এই একটা শর্ত যাতে সীমার বাইরে না চলে যায়। খরচের কথা আমেরিকাকে ভাবতে হবে না। বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি তাদের। অশান্তি বাড়লে তাদের অস্ত্র বিক্রিও বাড়বে। ইরানও ‘আত্মনির্ভর’ অস্ত্রে খরচে লাগাম টেনেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর চীন-রাশিয়ার সমর্থন পেলে খুব সমস্যা তাদের হবে না। বরং এই যুদ্ধে জ্বালানি অর্থনীতিতে যে হারে ধস নামতে শুরু করেছে, তাতে গোটা বিশ্বে কয়েকদিন পরই হাহাকার দেখা দেবে। জ্বালা ইজরায়েলের। ইরানে পালাবদল করতে না পারলে তাদের আম যাবে, ছালাও। 
দু’টি অক্ষ। তাই দাঁড়িপাল্লা এখন একই সরলরেখায় দাঁড়িয়ে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ইভেনলি পয়েজড’। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি যে কোনও দিকে যেতে পারে। ট্রাম্পের টার্গেট, খামেনেই রাজত্বের পতন এবং মার্কিন ধামাধরা কোনও শাসকের উত্থান। আটের দশকের আগে ঠিক যেমন ছিল। ইজরায়েলের লক্ষ্য, পশ্চিম এশিয়ার সুপ্রিম পাওয়ার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং গাজা-ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক দখল। আর ইরানের লক্ষ্য, নতুন পরমাণু শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ। তাহলেই ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে। হতে পারে, এই তিন সম্ভাবনার একটাতেই সময় সিলমোহর দিল। আবার হতে পারে জোরালো কোনও মধ্যস্থতা পরিস্থিতি ফিরিয়ে দিল আগের অবস্থানে। ক্যালেন্ডারের পাতাই বলবে। তবে হ্যাঁ, সান জু’র আমলে পরমাণু অস্ত্র ছিল না। এখন আছে। একটি প্রয়োগ দরজা খুলে দেবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ধ্বংসের। বিস্মৃতপ্রায় হয়ে যাবে মানব প্রজন্ম। তাই থামতে হবে এই যুদ্ধ। দ্রুত। সান জু কিন্তু আরও একটা কথা লিখে গিয়েছিলেন... দীর্ঘকালীন যুদ্ধে কোনও দেশের লাভ হয় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ