Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুয়ার নেশাকে দায়ী করে আত্মঘাতী বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষক

‘আমার মৃত্যুর জন্য জুয়া ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়।’ এক পাতার সুইসাইড নোটের শেষ লাইনে এই কথা লিখে আত্মহনন করেন জলঙ্গির সরকারি বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষক শাহিনুর রহমান ওরফে মিন্টু।

জুয়ার নেশাকে দায়ী করে আত্মঘাতী বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষক
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: ‘আমার মৃত্যুর জন্য জুয়া ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়।’ এক পাতার সুইসাইড নোটের শেষ লাইনে এই কথা লিখে আত্মহনন করেন জলঙ্গির সরকারি বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষক শাহিনুর রহমান ওরফে মিন্টু। সুইসাইড নোটে তিনজনের নাম লিখে গিয়েছেন মিন্টু। স্থানীয়দের দাবি, ওই তিনজনের একজন জলঙ্গি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। সোমবার ওই সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। পাশাপাশি এলাকায় জুয়ার রমরমা নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

রবিবার নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হয় মিন্টুর ঝুলন্ত দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাই হাসানুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে তাঁর লেখা ওই সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আসে। তারপরই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। নোটের শুরুতেই তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা লেখেন মিন্টু। এরপর পরিবারের উদ্যেশ্যে তিনি লেখেন, রাজু, বুলবুল ও জুলফিকারের সঙ্গে মিশে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ার পর থেকেই তার জীবন তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সুইসাইড নোটে নাম থাকা ওই জুলফিকারকে নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দাবি করা হচ্ছে, ওই জুলফিকার হল জলঙ্গি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। মৃত শাহিনুর রহমানের পরিবার ও আত্মীয়দের দাবি, জুলফিকার, রাজু ও বুলবুলরা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, থানার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় জুয়া সংক্রান্ত তোলাবাজির সঙ্গেও যুক্ত ছিল সে। সুইসাইড নোটে শাহিনুর রহমান আরও লেখেন, তাঁর সমস্ত টাকা ওই তিনজনের কাছেই রয়েছে। তবে নোটের শেষ অংশে তিনি আবারও স্পষ্ট করে লেখেন, আমার মৃত্যুর জন্য জুয়া ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়। সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আসতেই যেমন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে অবাধ জুয়ার কারবার নিয়েও। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জুয়ার রমরমা চলছে এবং সেই জুয়ার কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তাঁদের আরও দাবি, স্থানীয় এলাকার রাজনৈতিক দলের ছোট-বড় নেতা থেকে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে।
মৃতের শ্যালিকা সিধরাতুন মন্তাহা বলেন,আমার জামাইবাবু মৃত্যুর আগে ওই তিনজনের নাম লিখে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। এই তিনজনের কারণেই আমার জামাইবাবু এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হব।
মৃতের শাশুড়ি আঞ্জুমান আখতার বলেন, জুয়ার কারণেই আমাদের এত বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা চাই জুয়া পুরোপুরি বন্ধ হোক। আমি চাই না, আমার মেয়ের মতো আর কোনও মেয়ে এই জুয়ার কবলে পড়ে বিধবা হোক। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের মা জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এর আগেও ওই এলাকায় জুয়ার কারবারের খবর পেয়েছিলাম। তখন পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছিল। তবে এই ঘটনার পর শুনছি সাদিখাঁরদিয়াড় এলাকায় আবার জুয়ার কারবার শুরু হয়েছে।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ জানান, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবারের তরফে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবুও আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এলাকায় জুয়ার রমরমা অনেকটাই কমানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ