Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় কিমি দূর থেকে ভুনিয়া খালের জল এনে খাচ্ছেন গ্রামবাসীরা, ভুগছেন পেটের অসুখে

দেড় কিমি দূর থেকে ভুনিয়া খালের জল এনে  খাচ্ছেন গ্রামবাসীরা, ভুগছেন পেটের অসুখে
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সাঁকরাইল ব্লকের ধানঘোরী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের দুধিয়ানালা এক প্রত্যন্ত গ্ৰাম। সেখানে শতাধিক মানুষের বসবাস। গ্ৰাম ঘিরে শালবনের জঙ্গল। গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্ৰামে বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে। সাবমার্সিবল থেকে জল ওঠা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সকাল হলেই এলাকার মহিলারা দেড় কিমি পথ অতিক্রম করে ভুনিয়া খাল থেকে জল আনছেন। কিন্তু তাতে গ্রামবাসীরা নানা ধরনের পেটের অসুখে ভুগছেন। 

Advertisement

ধানঘোরী থেকে ছোলাখালি পর্যন্ত গ্ৰামে ঢোকার রাস্তায় একদশক আগে মোরাম পড়েছিল। খানাখন্দ ভরারাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল অনেকদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।গ্ৰামবাসীদের জলকষ্ট দূর করতে সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে জল তোলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্ৰামবাসীদের ভরসা এখন শালবনের পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে আসা ভুনিয়া খালের জল। গ্ৰামের মেয়েরা চড়া রোদে মাথায় কলসি হাঁড়ি নিয়ে খানাখন্দে ভরা রাস্তা পেরিয়ে খাল থেকে জল আনছেন।তেষ্টা মিটলেও খালের জল খেয়ে পেটের সমস্যা ও নানা সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফেও স্বীকার করা হয়েছে বিদ্যুৎ না থাকলে গ্ৰামের জল সঙ্কট দেখা দেয়। কালিন্দা পাড়ার বাসিন্দা অনুপমা কালিন্দী বলেন,গরম পড়তেই গ্ৰামে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকছেনা। এই এলাকায় একটিমাত্র সাবমার্সিবল আছে। তা থেকে জল মেলে না।গ্ৰামের কাছেই শালবনে একটি ঝর্ণা আছে। ঝর্ণার জল ভুনিয়াখালে এসে পড়ে। দেড় কিমি পথ পেরিয়ে সেখান থেকেই আমাদের জল আনতে হচ্ছে। অপর বাসিন্দা মানো কালিন্দী বলেন, চড়া রোদে কলসি, হাঁড়ি মাথায় করে জল আনতে গেলে পায়ের তলায় কালশিটে পড়ে যাচ্ছে। গরম আরও বাড়লেওভুনিয়া খাল থেকে জল আনা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।ছোলাখালি গ্ৰামের বাসিন্দাশিশির মাহাত বলেন, গ্ৰামের বেশিরভাগ বাসিন্দা চাষবাস ও দিনমজুরের কাজ করেন। ধানঘোরী থেকে ছোলাখালি পর্যন্ত ২ কিমি রাস্তায় ২০১৩ সালে শেষবার মোরাম পড়েছিল। মোরাম উঠে সেই রাস্তা বেহাল হয়েছে।বড় গাড়ি আর চলাচল করেনা। দশ-বারোটা গ্ৰামের বাসিন্দা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।স্থানীয় পঞ্চায়েতকে রাস্তা, জলের সমস্যা মেটানোর কথা বহুবার বলা হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। 
ধানঘোরী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমল কালিন্দী বলেন,গরম পড়তেই এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে‌।  যারজেরে সাবমার্সিবল থেকে জল উঠছেনা। ভুনিয়াখালের জল খেয়ে পেটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গ্ৰামবাসীরা রাস্তা নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসনকেবিষয়গুলো জানানো হয়েছে।সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতিরসভাপতি ঝনু বেরা বলেন, ব্লকজুড়েধাপেধাপে রাস্তাঘাট তৈরির কাজ চলছে।গ্ৰামগুলোতে পানীয় জল সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।দুধিয়ানালা গ্ৰামে পানীয় জলের সমস্যার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গেও কথা বলব। ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি তুফান মাহাত বলেন,গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে তীব্র জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।গ্ৰামের মহিলারা বাধ্য হয়ে দেড়,দুই কিমি পথ অতিক্রম করে পানীয় জল আনতে যাচ্ছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তার রূপায়ণ পঞ্চায়েতস্তরে দেখা যাচ্ছেনা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ