আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হচ্ছে জিএসটির সংশোধিত হার। গত ৩ তারিখ জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার আগে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘নেক্সট জেনারেশন জিএসটি রিফর্মস’ এবং এই বিষয়ক বড়ো ঘোষণার ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি ছিল, এটাই ভারতবাসীর জন্য এবারের ‘দীপাবলির উপহার’। প্রতিটি নাগরিকের যাপনচিত্র সুন্দর করে তোলাই হবে এই সংস্কারের লক্ষ্য। সরকারের ঘোষণা অনুসারে, জিএসটির হার পরিবর্তনে অগ্রাধিকার পেয়েছে সাধারণ নাগরিক, শ্রমনিবিড় শিল্পগুলি, কৃষক ও কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্র প্রভৃতি। সোজা কথায়, অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে স্বীকৃত সমস্ত ক্ষেত্রের ধারাবাহিক অগ্রগতিকেই গুরুত্ব দিয়েছে এই কর-সংস্কার উদ্যোগ। জিএসটি ব্যবস্থা এতদিন বেশ জটিল ছিল। এবার তা অনেকটাই সরল করা হল। জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি শূন্য। আটা থেকে পাউরুটি, পনির থেকে ছোলা—নিত্যব্যবহার্য বহু খাদ্যকে জিএসটি শূন্য করা হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবা আসবে নতুন তিনটিমাত্র স্ল্যাবের আওতায়—৫, ১৮ ও ৪০ শতাংশ। সাধারণের ব্যবহার্য পণ্য ও পরিষেবাগুলি থেকে ৫ এবং ১২ শতাংশ হারে জিএসটি নেওয়া হবে। আরও আশা জাগানো হয়েছিল যে, পুজোর মুখেই দাম কমতে পারে টেক্সটাইল এবং রেডিমেড গার্মেন্টস, জুতোসহ অর্থনীতির আটটি কোর সেক্টরে উৎপন্ন জিনিসপত্রের। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন যে, ৫ ও ১৮ শতাংশের স্ল্যাব দুটি থাকলেও বিলাসদ্রব্য, তামাক, ৫০ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়িসহ বেশকিছু পণ্যের উপর জারি থাকবে ৪০ শতাংশ কর, যাকে বলা হয় ‘সিন ট্যাক্স’। ১৭৫টির মতো পণ্যের দামে বড়োসড়ো রেহাই মিলতে চলেছে। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের জুতো ও রেডিমেড পোশাক একটু সস্তা হবে। কিন্তু তার বেশি দামের পণ্যের ঘাড়ে চাপবে বাড়তি জিএসটি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য রেহাই দেওয়া হয়েছে। কমে যাচ্ছে ৩৩টি জীবনদায়ী ওষুধের দাম। এই সূত্রে ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ কমতে পারে। সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষার জায়গাটি ছিল স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা। এই দুই ধরনের বিমার প্রিমিয়ামের ঘাড় থেকে জিএসটি পুরো নামিয়ে দেওয়া হল। এসি, ফ্রিজ, মোবাইল, ল্যাপটপের দামও এবার এসে যাচ্ছে সাধারণের সাধ্যের ভিতরে। মনে রাখতে হবে, এসব পণ্যকে এখন বিলাসদ্রব্য হিসেবে গণ্য করার কোনও কারণ আর নেই।


