নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইপিএলে প্রচারের আলো অনেকটাই শুষে নেন তারকারা। তবে এই মঞ্চ জন্ম দেয় নতুন তারারও। পঁচিশের কোটিপতি লিগে ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন ভিগনেস পুথুর, প্রিয়াংশ আচার্য, আশুতোষ শর্মা, বিপরাজ নিগমরা। তাঁদের নিয়ে চর্চা সর্বত্র। সেই তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী-বৈভব অরোরাদেরও। ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুর্দান্ত জয়ে এই দুই তরুণের ভূমিকাও তো কম নয়। একজন কঠিন সময়ে চোয়াল চাপা লড়াইয়ে হাঁকালেন দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি। আর একজন বল হাতে নিলেন ৩ উইকেট। বলতে হবে মিষ্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর কথাও। তাঁর ঝুলিতেও ৩টি উইকেট। বৈভব-বরুণের অনবদ্য বোলিংয়ের জবাব ছিল না হায়দরাবাদের কাছে।
ইডেনের এই পিচে হায়দরাবাদের পক্ষে যে ২০০ তোলা কঠিন, সেটা বল করতে নামার আগেই বুঝে গিয়েছিলেন বরুণ। ম্যাচ শেষে মিস্ট্রি স্পিনার বলেছেন, ‘জানতাম, এই মাঠে দুশো যথেষ্ট ভালো স্কোর। আর সেটা আমরা ধরে রাখতে পারব। শুরুতে পেসাররা ভালো বল করেছে। বিশেষত বৈভব যে ক’টা উইকেট নিয়েছে প্রতিটাই মূল্যবান। ওর জন্য কোনও প্রশংসাই পর্যাপ্ত নয়।’ সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘গত দুটো দিন আমাদের কাছে খুব কঠিন ছিল। কারণ মুম্বইয়ের কাছে খারাপভাবে হেরেছিলাম। তাই এই ম্যাচে আমরা মরিয়া হয়ে জিততে চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য সফল। গত বছরও কয়েকটা ম্যাচে আশাপ্রদ পারফরম্যান্স হয়নি। তাই বলে কখনও কাউকে দোষারোপ করিনি। বরং একে অপরের পাশে থেকেছি। এই সঙ্ঘবদ্ধতাই আমাদের শক্তি। আজ হয়তো ভালো খেলেছি। কিন্তু পরের দিন শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আইপিএলে প্রত্যেকটা দলেরই গুছিয়ে উঠতে অন্তত তিন-চারটে ম্যাচ লাগে। আমরাও চারটে ম্যাচ খেলেছি। এই সাফল্যে ভর করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ পাশাপাশি অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেরও প্রশংসা করেছেন বরুণ।
এদিন বিপক্ষের দুই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড ও ঈশান কিষানকে দ্রুত আউট করে কেকেআরের জয়ের পথ প্রশস্ত করেন বৈভব অরোরা। চার ওভারে ২৯ রানে তিনটি উইকেট নেন তিনি। ম্যাচের পর বৈভব জানালেন, বৈচিত্র্যই তাঁর সাফল্যের রহস্য। তরুণ পেসারের কথায়, ‘পাঁচ-ছয় ওভারের পর বল স্যুইং করে না। তাই আমি কাটার এবং ইয়র্কারে উন্নতির চেষ্টা করছি। ক্রিকেট এখন অনেক বদলে গিয়েছে। ব্যাটাররা শুরু থেকেই বোলারদের আক্রমণ করছে। তাই সাফল্য পেতে গেলে হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র থাকা জরুরি।’ প্রায় প্রত্যেক ম্যাচে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামছেন বৈভব। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দল আগে থেকেই জানিয়ে দেয় যে, আমি ইমপ্যাক্ট হিসেবে খেলব। আমি সেভাবেই মানসিক প্রস্তুত নিয়ে থাকি। কোনও অসুবিধা হয় না।’
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ডি’কক ও নারিনের উইকেট হারায় নাইট রাইডার্স। দেখে মনে হচ্ছিল, কামব্যাক তো দূর অস্তত, পয়েন্ট তালিকায় আরও তলানিতে যাওয়ার পথে শাহরুখ খানের দল। কঠিন সময়ে রাহানের অভিজ্ঞতা ও রঘুবংশীর সাহসী ব্যাটিংই মোড় ঘোরায় ম্যাচে। তার উপর রোলার চালিয়ে কামিন্সদের রীতিমতো কোণঠাসা করে দেন বেঙ্কটেশ, রিঙ্কুরা। আর ব্যাটারদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে বাজিমাত করেন বৈভব-বরুণরা।
স্কোরবোর্ড: কলকাতা- ডি’কক ক আনসারি বো কামিন্স ১, নারিন ক ক্লাসেন বো সামি ৭, রাহানে ক ক্লাসেন বো আনসারি ৩৮, অঙ্গকৃষ ক হার্শল বো কামিন্দু ৫০, বেঙ্কটেশ ক অনিকেত বো হার্শল ৬০, রিঙ্কু অপরাজিত ৩২, রাসেল রান আউট ১, অতিরিক্ত ১১, মোট ২০ ওভারে ৬ উকেটে ২০০। উইকেট পতন ১-১৪, ২-১৬, ৩-৯৭, ৪-১০৬, ৫-১৯৭, ৬-২০০। বোলিং: সামি ৪-০-২৯-১, কামিন্স ৪-০-৪৪-১, সিমরজিৎ ৪-০-৪৭-০, আনসারি ৩-০-২৫-১, হার্শল ৪-০-৪৩-১, কামিন্দু ১-০-৪-১।
হায়দরাবাদ- হেড ক হর্ষিত বো বৈভব ৪, অভিষেক ক বেঙ্কটেশ বো হর্ষিত ২, ঈশান ক রাহানে বো বৈভব ২, নীতীশ ক নারিন বো রাসেল ১৯, কামিন্দু ক অনুকূল বো নারিন ২৭, ক্লাসেন ক মঈন বো বৈভব ৩৩, অনিকেত ক বেঙ্কটেশ বো বরুণ ৬, কামিন্স ক হর্ষিত বো বরুণ ১৪, হার্শন ক ও বো রসেল ৩, সিমরজিৎ বো বরুণ ০, সামি অপরাজিত ২, অতিরিক্ত ৮। মোট ১৬.৪ ওভারে ১২০। উইকেট পতন ১-৪, ২-৯, ৩-৯, ৪-৪৪, ৫-৬৬, ৬-৭৫, ৭-১১২, ৮-১১৪, ৯-১১৪, ১০-১২০। বোলিং: বৈভব ৪-১-২৯-৩, হর্ষিত ৩-০-১৫-১, বরুণ ৪-০-২২-৩, রাসেল ১.৪-০-২১-২, নারিন ৪-০-৩০-১।
কলকাতা জয়ী ৮০ রানে।