Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬

‘যন্ত্র’ ঠেকিয়ে বাংলাদেশি যাচাই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের, চাপের মুখে তদন্তের নির্দেশ

‘কোথা থেকে এসেছেন? কাগজপত্র দেখি। একদম মিথ্যে বলবেন না। আমাদের কাছে কিন্তু যন্ত্র আছে। এখনই সব ধরা পড়ে যাবে।’ পুলিশকর্তার এমন কথা শুনে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন রোশনি খাতুন ও বাকিরা।

‘যন্ত্র’ ঠেকিয়ে বাংলাদেশি যাচাই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের, চাপের মুখে তদন্তের নির্দেশ
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: ‘কোথা থেকে এসেছেন? কাগজপত্র দেখি। একদম মিথ্যে বলবেন না। আমাদের কাছে কিন্তু যন্ত্র আছে। এখনই সব ধরা পড়ে যাবে।’ পুলিশকর্তার এমন কথা শুনে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন রোশনি খাতুন ও বাকিরা। সামনে দাঁড়িয়ে র‌্যাফ ও পুলিশ। কী করবেন, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এমন সময় রোশনির জামাইবাবুর পিঠে ফোন ঠেকিয়ে কী জানি পরীক্ষা শুরু করলেন পুলিশ আধিকারিক। যেন কোনও ‘নাগরিক যাচাইয়ের যন্ত্র’। মুহূর্তেই বলে দেবে কে বাংলাদেশি আর কে ভারতের বাসিন্দা। ঠিক তাই হল। একটু পর এসএইচও বলে উঠলেন, ‘এই দেখুন মেশিনে কিন্তু বাংলাদেশি দেখাচ্ছে।’ কাঁদো কাঁদো গলায় ওই বাসিন্দার বক্তব্য, ‘স্যার আমি বাংলাদেশি না। আমরা বিহার থেকে এসেছি।’ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ভোয়াপুর বস্তির ঘটনা। গত ২৩ ডিসেম্বর যোগী রাজ্যে পুলিশ-প্রশাসনের এমন অদ্ভুত কাণ্ডে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়।

Advertisement

সিএএ হোক বা এসআইআর। নাগরিকত্বের নিত্যনতুন জাঁতাকলে নাজেহাল আমজনতা। নিয়ম-নির্দেশিকার চাপে অনেকে আতঙ্কে আত্মঘাতী। প্রায়শই সভা গরম করতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও গর্জে ওঠেন মোদি-শাহ-যোগীরা। বিরোধীদের কথায়, এতটাই জোরালো মগজধোলাই করা হচ্ছে যে, বাংলা বললেই ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ দাগিয়ে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এরইমাঝে এমন আজব ঘটনায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। 
২৩ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, কৌশাম্বী থানার এসএইচও অজয় শর্মা সহ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক ভোয়াপুর বস্তিতে গিয়ে বাংলাদেশি খোঁজার কাজ শুরু করেছেন। পিঠে মোবাইল ঠেকিয়ে একজনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপরই নথিপত্র দেখিয়ে রুখে দাঁড়ায় বাসিন্দারা। শেষমেশ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন পুলিশ আধিকারিক। পরের দিকে চাপে পড়ে ওই আধিকারিক অজয় শর্মার বক্তব্য, ‘আমি কিছু ভুল করিনি। আসলে ওদের চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। যাতে আসল পরিচয়টা বলে।’
ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বড়দিন ও নতুন বছরের কথা মাথায় রেখে রুটিন তল্লাশি চলছিল। সেইসূত্রে গত ২৩ ডিসেম্বর কৌশাম্বী থানার ওই আধিকারিকরা বস্তিতে গিয়েছিলেন। তখন এসএইচও কয়েকজনকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু উপর মহল থেকে এমন কোনও নির্দেশিকা নেই। ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ