Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ভেনেজুয়েলার তেল বেচবে আমেরিকা, বিক্রির অর্থ থাকবে আমার হাতে: ট্রাম্প, চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের নির্দেশ

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এবার ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডারের রাশ নিজের হাতে নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার তেল বেচবে আমেরিকা, বিক্রির অর্থ থাকবে আমার হাতে: ট্রাম্প, চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের নির্দেশ
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এবার ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডারের রাশ নিজের হাতে নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘নিষিদ্ধ’ তেল আমেরিকাকে দেবে কারাকাস। সেই তেল খোলা বাজারে বেচবে মার্কিন সরকার। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, জ্বালানি বিক্রির টাকা হাতে পাবে না ভেনেজুয়েলা। পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনি। এদিন ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ৩০-৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অতি উচ্চমানের তেল আমেরিকাকে দেবে। খোলাবাজারে সেই তেল বিক্রি হবে। ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার মানুষের স্বার্থেই যাতে ওই অর্থ ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে আমিই ওই টাকা নিয়ন্ত্রণ করব।’ এর আগেই ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প আমেরিকা ও বেসরকারি সংস্থার হতে তুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

Advertisement

ইতিমধ্যে নিজেই ভেনেজুয়েলার অন্তবর্তী সরকার ঠিক করে দিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সেদেশের প্রশাসনের উপর ছড়ি ঘোরাতেও শুরু করলেন তিনি। অবিলম্বে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিডেজকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, তেল উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে আমেরিকা ছাড়া আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না। হুঁশিয়ারির সুরে রডরিডেজ প্রশাসনের উপর জোড়া শর্ত চাপিয়েছে আমেরিকা। বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তেল উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবে। অন্য কারও সঙ্গে কোনও চুক্তি চলবে। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছেন, এই জোড়া শর্ত মানলে তবেই অন্তর্বর্তী সরকারকে নিজের দেশের তেল উত্তোলনে অনুমতি দেবে আমেরিকা। 
 প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভেনেজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাতে তাদের তেল উৎপাদন বড় ধাক্কা খেয়েছে। স্টোরেজের অভাবে নতুন করে তেল উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিও ভেঙে পড়তে পারে। মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, কারাকাসের কাছে কয়েক সপ্তাহের রসদ রয়েছে। তেল বিক্রি করতে না পারলে তারা অচিরেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর সেদেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতির বিশ্বের অন্যতম বড় তেলভাণ্ডারের রাশ নিজের হাতে নিতে সক্রিয় ট্রাম্প। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ