নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নিয়ে কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে প্রবল ধন্দে গোটা বিশ্ব। দোলাচলে ভারতীয় পড়ুয়ারাও। এর মধ্যেই কিছুটা আশার কথা শোনা গেল নম্বরস ইউএসএ’র ফেডারেল রিলেশনসের ডিরেক্টর মাইকেল হগের গলায়।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নিয়ে কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে প্রবল ধন্দে গোটা বিশ্ব। দোলাচলে ভারতীয় পড়ুয়ারাও। এর মধ্যেই কিছুটা আশার কথা শোনা গেল নম্বরস ইউএসএ’র ফেডারেল রিলেশনসের ডিরেক্টর মাইকেল হগের গলায়।
ভারত ও ভিয়েতনামের ইউএস মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন হয়েছিল এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার। সেখানেই ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মাইকেল হগ। উঠে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী পড়ুয়াদের ভিসা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘অভিবাসন নীতিতে আইনত কোনও পরিবর্তন হয়নি। পড়ুয়াদের ভিসার জন্য কী কী প্রয়োজন, কতজন ভিসা পাবেন, কোন কোন ক্যাটিগরিতে ভিসা দেওয়া হবে, সবই এক রয়েছে। এই বিষয়টি পরিবর্তন করতে পারে মার্কিন কংগ্রেস। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চাইলেই এগুলি বদলে ফেলতে পারে না। তার বদলে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসার আবেদনগুলি অত্যন্ত কঠোরভাবে খুঁটিয়ে দেখছে।’ তিনি আরও জানান যে, আইনি অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পক্ষে সওয়াল করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু গোটা বিষয়টাই রয়েছে কংগ্রেসের হাতে। আর বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ।
এরপরই মার্কিন মুলুকে যেতে আগ্রহীদের উদ্দেশে মাইকেল হগ বলেন, ‘আমেরিকায় আসার সুযোগ পাওয়া বেশ বড় ব্যাপার। প্রতি বছর ১০ লক্ষ অভিবাসী এদেশে আসেন। আরও অনেকেই আসতে চান। কিন্তু কারা আসবেন, তা আমরা বেছে নিতে চাই। যদি কাউকে আসতেই হয়, বৈধভাবে আসুন।’
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প সরকারের একটি ‘নোট’ প্রকাশ্যে আসে। তা থেকে জানা যায়, নতুন ভিসার জন্য সাময়িকভাবে পড়ুয়াদের ইন্টারভিউয়ের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে বিদেশি পড়ুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুঁটিয়ে দেখা হবে বলেও জানা যায়। এই ভার্চুয়াল আলোচনায় অবশ্য সেই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি হগ। বরং জানিয়েছেন, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কমিয়ে স্কিল বেসড ইমিগ্রেশনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে স্কিলড কর্মীদের জন্য ভিসা লটারি থাকলেও সেটা যে যথেষ্ট নয়, সে কথা জানাতেও ভোলেননি নম্বরস ইউএসএ’র ফেডারেল রিলেশনসের ডিরেক্টর।
অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ জানানোর পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে পূর্বতন বাইডেন সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি হগ। তিনি বলেন, ‘বাইডেনের আমলে ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ অবৈধভাবে আমেরিকায় ঢুকেছিল।’ আর এই অবৈধ অভিবাসন রুখতে মার্কিনিদের অধিকাংশই গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঢেলে ভোট দিয়েছেন।