সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে নৈহাটিজুড়ে। এখানকার কিছু পুজো শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এবছর কেউ তৈরি করছেন আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক। কেউ বানাচ্ছেন গুজরাটের নীলকণ্ঠ মন্দির। কেউ সাদামাটা প্যান্ডেল করছেন আর পাড়ার মহিলা-শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করছেন। একসঙ্গে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়াও করবেন।
নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুজোটি করে গরিফা যুব সংঘ। এটি বিগ বাজেটের পুজো বলে পরিচিত। আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংকের অনুকরণে প্যান্ডেল হচ্ছে। মণ্ডপ ৬০ ফুটের। দেওয়ালে আলো-শব্দের খেলায় দেখানো হবে শিবতাণ্ডব বা দক্ষযজ্ঞ। ১৯৭৮ সাল থেকে হওয়া বিভিন্ন যুদ্ধও লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে দর্শনার্থীদের সামনে। পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা ও কাউন্সিলার সুশান্ত সরকার জানান, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছে। আমেরিকা-ইরাক, ভারত-পাকিস্তান, রাশিয়া-ইউক্রেন, ইজরায়েল-ইরান। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধ। সেই সব যুদ্ধের ভিডিও ক্লিপ মণ্ডপের ওয়ালে আমরা তুলে ধরতে চাই। চাই, যুদ্ধ বন্ধ হোক। ভেসে আসুক শান্তির বার্তা। মা দুর্গার কাছে সেটাই আমাদের প্রার্থনা।
এছাড়া আর একটি বড় পুজো হলো রাজেন্দ্রপুর মৎস্য বাজার উন্নয়ন কমিটির পুজো। এর অন্যতম কর্তা পার্থসারথি পাত্র জানান, ৪৯ বছরের পুজো। নৈহাটি মাছ বাজারের সামনে হয়। এটি নৈহাটির অন্যতম বড় পুজো। গুজরাতের নীলকণ্ঠ মন্দিরের অনুকরণে হচ্ছে মণ্ডপ। শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। প্রতিমা সাবেকি ঢংয়ের। রায়পাড়া আদি দুর্গোৎসবের বয়স ৯৯ বছর। এ পুজো ভাঙা বাড়ির পুজো নামে পরিচিত। এটি এখানকার প্রাচীনতম বারোয়ারি পুজো বলে পরিচিত। ৯৮ বছরে পড়ল ব্যানার্জি পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব। কৃষ্ণনগরের প্রতিমা। পূজো ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ রয়েছে। এ বছর নানা ধরনের অনুষ্ঠান হবে পুজোর দিনগুলিতে। নব তরুণ সংঘের পুজোর বয়স ৭৭ বছর। আট নম্বর বিজয়নগরের বালক সংঘের পুজো এবার ৫৮ বছরে পড়ল। ৫০ বছর বয়সে বালক সংঘ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে একটি মন্দির তৈরি করেছিল। সেই মন্দিরেই হবে পুজো। বারোয়ারি পুজোর আয়োজন চলছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শহর নৈহাটিতে। নিজস্ব চিত্র